এআইকে যতই আপন ভাবুন, এই ৫ প্রশ্নে সে আপনার সত্যিকারের বন্ধু নয়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি স্তরে ঢুকে পড়েছে। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে মনের গোপন কথা শেয়ার করা পর্যন্ত— সব ক্ষেত্রেই মানুষ ক্রমশ বেশি ভরসা করছে এআইয়ের ওপর। কিন্তু মনোবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, প্রযুক্তির এই নতুন সঙ্গী কখনোই মানুষের জায়গা নিতে পারে না। বিশেষ করে আবেগ, সৌন্দর্য কিংবা টাকাপয়সার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এআইয়ের পরামর্শের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার প্রশ্নে কিছু বিষয়ে এআইয়ের শরণাপন্ন না হওয়াই ভালো—
রূপ-সৌন্দর্য নিয়ে মতামত চাওয়া
নিজের চেহারা বা পোশাক কেমন লাগছে, তা জানতে এআইয়ের কাছে জিজ্ঞেস করা মূলত সময়ের অপচয়। কারণ এর পেছনে কাজ করা বাণিজ্যিক অ্যালগরিদম মূলত ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট রাখতেই তৈরি, সত্যি কথা বলার জন্য নয়। বাস্তব জীবনের একজন কাছের মানুষ যেভাবে খোলামেলাভাবে সত্যিটা বলে দিতে পারেন, এআই কখনোই সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারে না।
কেউ ভালোবাসে কি না অর্থাৎ আবেগঘন বিষয়ে জানতে চাওয়া
কেউ সত্যিই আপনাকে ভালোবাসে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে এআই হয়তো সহানুভূতিশীল ভাষায় উত্তর দেবে, কিন্তু তা আসলে কৃত্রিম। মানুষের জটিল আবেগ উপলব্ধি করা বা হৃদয় দিয়ে অনুভব করার সামর্থ্য এর নেই। এ ধরনের আবেগঘন বিষয়ে এআইয়ের বদলে বিশ্বস্ত বন্ধু বা প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের কাছে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
নিজের বুদ্ধিমত্তা মাপার চেষ্টা
নিজের মেধা বা যোগ্যতা কতটুকু, তা যাচাই করতে এআইয়ের ওপর নির্ভর করাও একধরনের ভুল ধারণা। এআই বিপুল তথ্যভান্ডারের সমষ্টি মাত্র, এটি কোনো অনুভূতিপ্রবণ সত্তা নয় যে মানুষের প্রকৃত সামর্থ্য মূল্যায়ন করতে পারবে।
অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে ভরসা
টাকাপয়সা বা জীবনের জটিল সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করলে এআই প্রায়ই বাস্তবসম্মত হিসাবের বদলে তাত্ত্বিক বা দার্শনিক ধরনের জবাব দেয়। তাই আর্থিক পরিকল্পনার মতো বিষয়ে পেশাদার হিসাবরক্ষক বা অর্থবিষয়ক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
বাস্তব জীবনের মানবিক সহায়তা
রান্নার রেসিপি বা টিপস দিতে পারলেও এআই কখনো নিজে হাতে থালাবাসন মেজে দিতে পারবে না। জরুরি মুহূর্তে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, গাড়ি বিকল হলে তা সারানো কিংবা ছোটখাটো ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মতো বাস্তব মানবিক সহায়তা; এসব কিছুই এআইয়ের সাধ্যের বাইরে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিজস্ব কোনো ইচ্ছা বা অনুভূতি নেই; এটি চলে সার্ভার আর তথ্যের ওপর ভর করে। এআইকে বন্ধু বা জীবনের আশ্রয়স্থল ভাবা আসলে একধরনের ‘ডিজিটাল বিভ্রম’ ছাড়া কিছু নয়। বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, মানুষের প্রকৃত সহানুভূতি আর সামাজিক বন্ধনের মূল্য প্রযুক্তির কৃত্রিম প্রশংসার চেয়ে অনেক বেশি এবং তা-ই প্রকৃত অর্থে টেকসই।
মতামত দিন