Views Bangladesh Logo

এআইয়ের ছোঁয়ায় ফিরছে আশির দশক, নিজের ছবিতেই তৈরি করুন রেট্রো লুক

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আশির দশকের রেট্রো ছবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে বর্তমান সময়ের সাধারণ ছবি এমনভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে, যেন সেটি চার দশক আগে তোলা। ইনস্টাগ্রামের স্টোরি ও পোস্টে এ ধরনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা নিজেদের তৈরি করা নির্দেশনাও একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন।

এই প্রবণতার বিশেষত্ব হলো, এখানে শুধু ছবিতে পুরোনো রঙের ফিল্টার যোগ করা হচ্ছে না। এআইয়ের মাধ্যমে বদলে দেওয়া হচ্ছে পুরো দৃশ্যের আবহ। ছবিতে যুক্ত হচ্ছে আশির দশকের পোশাক, বড় বা ভলিউমযুক্ত চুল, পুরোনো দিনের গয়না ও আনুষঙ্গিক উপকরণ। পাশাপাশি নরম স্টুডিও আলো, সরাসরি ফ্ল্যাশ, উষ্ণ রং এবং অ্যানালগ ক্যামেরায় তোলা ছবির মতো সূক্ষ্ম ফিল্ম গ্রেইনও যোগ করা হচ্ছে।

এ ধরনের ছবি তৈরি করতে প্রথমে ভালো আলোয় তোলা একটি পরিষ্কার ছবি এআইভিত্তিক ছবি তৈরির টুলে আপলোড করতে হয়। এরপর নির্দেশনায় জানাতে হবে যে ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটের মতো করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তির মুখের গঠন, পরিচয়, বয়স ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি যতটা সম্ভব অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দিলে ফলাফল আরও স্বাভাবিক হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক, চুল, মেকআপ, পটভূমি ও আলোর ধরনও নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়।

আরও বাস্তবসম্মত ফল পেতে শুধু ‘আশির দশকের ছবি’ বললেই হবে না। কোন ধরনের পরিবেশ বা ফ্যাশন চান, সেটি স্পষ্ট করা ভালো। যেমন পুরোনো স্টুডিও, পারিবারিক অ্যালবামের ছবি, সিনেমার পোস্টারের আবহ, ডিস্কো পরিবেশ কিংবা সে সময়ের সাধারণ ঘরবাড়ির সাজ উল্লেখ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট চাইলে পুরোনো ঢাকার রাস্তা, আশির দশকের পোশাক, কাঠের আসবাব, পুরোনো টেলিফোন বা সে সময়ের স্টুডিওর পরিবেশের মতো উপাদানও নির্দেশনায় যোগ করা সম্ভব।

ছবির বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটাই নির্ভর করে চুল, পোশাক ও আলোর ওপর। পুরুষদের ক্ষেত্রে পাশের দিকে আঁচড়ানো চুল, গোঁফ, জিনস বা ঢিলেঢালা শার্টের মতো উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে ভলিউমযুক্ত বা ঢেউ খেলানো চুল, উজ্জ্বল পোশাক, বড় গয়না ও সে সময়ের মেকআপের ধরন যোগ করা যায়। তবে সব উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার না করে একটি নির্দিষ্ট স্টাইল বেছে নিলে ছবিটি অতিরঞ্জিত না হয়ে বেশি স্বাভাবিক দেখায়।

যেভাবে বানাবেন আশির দশকের স্টাইলের ছবি

এই ধরনের ছবি বানাতে হলে শুরুতে যেকোনো এআই ইমেজ জেনারেশন টুলে নিজের একটি স্পষ্ট ছবি দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ছবিতে চেহারা যেন স্পষ্ট দেখা যায় এবং আলোর মান ভালো থাকে। এরপর ঠিক কী রকম আশির দশকের রূপ চান, তা যত স্পষ্টভাবে নির্দেশনায় লেখা যাবে, ফলও তত নিখুঁত আসবে।

উদাহরণস্বরূপ, এমন একটি নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে—
'এই ছবিকে ১৯৮০ সালের একটি বাস্তবধর্মী পোর্ট্রেটে পরিণত করুন। ব্যক্তির চেহারার গঠন, পরিচয়, বয়স এবং স্বাভাবিক ভাবভঙ্গি একই রাখুন। সেই দশকের উপযোগী চুলের কাট, পোশাক আর মেকআপ ব্যবহার করুন। পটভূমিতে দিন পুরোনো ধাঁচের স্টুডিওর পরিবেশ। ছবিতে যুক্ত করুন ৩৫ মিমি ফিল্মের হালকা দানাদার ভাব, উষ্ণ রঙের টোন, নরম ফ্ল্যাশের আলো, স্বাভাবিক ছায়া এবং ত্বকের বাস্তবসম্মত গঠন। ছবিটি যেন কেবল ভিনটেজ ফিল্টার বসানো একটি আধুনিক ছবির মতো না লাগে, বরং সত্যিই ১৯৮০ সালে তোলা মনে হয়। কোনো টেক্সট, ওয়াটারমার্ক বা আধুনিক কোনো উপাদান রাখা যাবে না।'

দেশীয় আবহ যোগ করতে চাইলে

শুধু '৮০-এর দশকের লুক' বললে ছবিতে সাধারণ একটি বৈশ্বিক রেট্রো ধাঁচ চলে আসতে পারে। তাই আরও সুনির্দিষ্ট ফলাফলের জন্য নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সময়কাল, জায়গা এবং পোশাকের বিবরণ যোগ করা যায়।

উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের আশির দশকের পোশাক-আশাক, পুরোনো ঢাকার সড়ক, তৎকালীন স্টুডিও, কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, পুরোনো আমলের টেলিফোন, ফিল্ম ক্যামেরার আলো বা সেই সময়ের চালু পোশাকের কথা উল্লেখ করা যায়। এর ফলে ছবিতে কেবল পুরোনো আমেজ নয়, স্থানীয় সময় ও সংস্কৃতির চিহ্নও ফুটে ওঠে।

চুল ও পোশাকে থাকুক পুরোনো দিনের ছোঁয়া


ছবিকে আরও প্রাণবন্ত করতে চুলের ধরন ও পোশাকের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া যায়। যেমন ঘনসন্নিবিষ্ট ওয়েভি চুল, চওড়া কলার, ফোলানো হাতা, কোমরে বেল্ট বা রঙিন পোশাকের উল্লেখ করা যেতে পারে। মেকআপের ক্ষেত্রে গাঢ় আইলাইনার, একটু কড়া লিপস্টিক অথবা উজ্জ্বল আইশ্যাডোর মতো বিষয়ও যোগ করা যায়।

তবে একসঙ্গে সব উপাদান ব্যবহার না করে একটিমাত্র নির্দিষ্ট ধরন বেছে নেওয়াই ভালো। এতে ছবি অতিরিক্ত কৃত্রিম দেখাবে না, বরং স্বাভাবিক একটি রেট্রো আবহ পাওয়া যাবে।

সামাজিক মাধ্যমে এই ধারা কেন এত জনপ্রিয়


বর্তমান এআই প্রযুক্তির ক্ষমতায় কেবল ছবির রং বদলে দেওয়া নয়, একটি নির্দিষ্ট যুগের পোশাক, চুলের স্টাইল, আলো, চারপাশের পরিবেশ এমনকি ফটোগ্রাফির ধরনও পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে হাতে গোনা কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েই আজকের একটি ছবি রূপ নিতে পারে কয়েক দশক আগের কোনো স্মৃতির মতো।

এই সামাজিক মাধ্যমের প্রবণতা শুধু পুরোনো দিনের পোশাক ফিরিয়ে আনার বিষয় নয়। বরং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের ছবির ভেতরেই হারিয়ে যাওয়া একটি সময়কে কল্পনা করে দেখার সুযোগ এটি। চার দশক আগেকার সেই পরিবেশ এখন আবার ফিরে আসছে— তবে এবার আর স্মৃতির অ্যালবামে নয়, বরং ডিজিটাল পর্দায়।

এআইয়ের এই প্রবণতা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কাজ করছে প্রযুক্তি ও নস্টালজিয়ার সমন্বয়। ব্যবহারকারীরা নিজেদের বর্তমান ছবিকে কেবল পুরোনো রঙে রূপান্তর করছেন না, বরং কল্পনায় ফিরিয়ে নিচ্ছেন এমন এক সময়ে, যখন ডিজিটাল ক্যামেরা বা স্মার্টফোনের বদলে ফিল্ম ক্যামেরায় ছবি তোলা হতো। তাই কয়েকটি নির্দিষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে বর্তমানের একটি ছবি এখন হয়ে উঠছে পুরোনো পারিবারিক অ্যালবাম বা আশির দশকের স্টুডিও পোর্ট্রেটের মতো।

সূত্র: লাইভমিন্ট, হিন্দুস্তান টাইমস

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ