‘আদিবাসীদের’ ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজের সমাবেশ
পাঠ্যবই থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত গ্রাফিতি বাদ দেওয়া ও আদিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন দীপায়ন খীসা।
সমাবেশে অলীক মৃ বলেন, ‘গত ১৫ জানুয়ারি ভুঁইফোড় সংগঠন ‘স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি’ আমাদের আদিবাসীদের ওপর হামলা করে। ২৪ এর জুলাই বিপ্লবে আমরা কিন্তু আন্দোলনে ছিলাম। সেই জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে পূর্ণতা দিতে পাঠ্যবইয়ে আদিবাসী শব্দ যুক্ত গ্রাফিতি যোগ করা হয়। কিন্তু একদল উগ্রবাদী গোষ্ঠির কথায় এনসিটিবির চেয়ারম্যান সেই গ্রাফিতি বাদ দেন। আমরা গত ১৩ জানুয়ারি কর্মসূচি দিলে আমাদের ওপর হামলার প্ল্যান অনুসারে কর্মসূচি দেয় স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি। আমরা সেই সন্ত্রাসীদের দেয়া হুমকি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার কোনো নজরই দেয়নি। এর ফলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়’।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ২১ জন ভাই-বোন আহত হয়েছেন। তার প্রতিবাদে আমরা পদযাত্রা করলাম, সেখানেও পুলিশ হামলা করছে। অথচ তারা ১৫ জানুয়ারি নীরব ছিল। প্রত্যেককে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। এই হামলার বিচার চাই। সেই সাথে অতি দ্রুত পাঠ্যবইয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দ বহাল রাখার দাবি জানাই’।
বাংলাদেশ জাসদের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার বলেন, ‘এই সরকারকে দিনে দিনে স্বৈরাচারী সরকারে পরিণত করার ষড়যন্ত্র কারা করছে, তাদের দেশের মানুষ চেনেন ও জানেন। এসব হামলা-মামলা করে কোনো লাভ হবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই ষড়যন্ত্র করতে পারবে না’।
‘লাঠির সাথে জাতীয় পতাকা বেঁধে তারা আদিবাসী ভাই-বোনদেরকে আক্রমণ করে। এখনো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তাদের ছবি! তাহলে কিভাবে তারা এখনো বাইরে ঘুরে বেড়ান। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এই হামলাকারীদের বিচার চাই’- বলেন তিনি।
সমাবেশে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন বক্তারা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কার্যালয়ের কাছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদরত আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের উপর বর্বরোচিত হামলার দ্রুত উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আইন অনুসারে কঠোর শাস্তি এবং গত ১৪ জানুয়ারির হামলায় আহত আদিবাসী শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের সুচিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে সুনিশ্চিত করা। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পেছনে কোনো বিশেষ মদদদাতা গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল কি না তাও দ্রুত শনাক্ত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিতসহ জড়িতদের আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া।
পাঠ্যপুস্তকে আদিবাসীদের যথাযথ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত অধ্যায় যুক্ত এবং আদিবাসী শব্দযুক্ত যে গ্রাফিতি প্রত্যাহার করে ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানকে কার্যত অসম্মানিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, সেজন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অভুত্থানের মূল নায়ক ছাত্র-জনতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও প্রত্যাহৃত গ্রাফিতি যথাস্থানে যথা মর্যাদায় পুন:স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
স্বঘোষিত হামলাকারীদের পূর্বপরিকল্পিত হামলা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন নীরব ছিলেন বা ব্যর্থ হলেন তার সুস্পষ্ট ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দেশবাসীকে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর দাবিও তুলে ধরা হয় সমাবেশে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে