বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির পরিকল্পনায় এবার এশিয়ারও ‘না’, চাপে ফিফা
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে ক্রমেই চাপে পড়ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইউরোপ ও কনকাকাফের পর এবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে এএফসি জানায়, তারা উয়েফা ও কনকাকাফের অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। সংস্থাটির মতে, এই প্রস্তাব ফুটবলের প্রয়োজনীয় ঐক্য ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত উপায় নয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর এবং এর সার্বজনীনতা ও ঐক্য ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সেই প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
এএফসির এই অবস্থান ইনফান্তিনোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে কোনো প্রস্তাব পাস করতে অন্তত ১০৬টি ভোটের প্রয়োজন। উয়েফার ৫৫, কনকাকাফের ৩৫ এবং এএফসির ৪৬ সদস্য মিলিয়ে মোট ১৩৬টি ভোট এই পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রস্তাবটি অনুমোদনের সম্ভাবনা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এএফসি ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ারও সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, সদস্যদের সঙ্গে অর্থবহ কোনো পরামর্শ ছাড়াই এত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা ফিফার প্রশাসনিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিশ্বকাপ বৈশ্বিক ফুটবল পরিবারের সম্পদ, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার উয়েফা জানায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তারা ভবিষ্যতের বিশ্বকাপে বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনা করবে। কয়েক ঘণ্টা পর কনকাকাফও পৃথক বিবৃতিতে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে।
তবে ক্রমবর্ধমান বিরোধিতার মধ্যেও ফিফা জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়া হবে। সংস্থাটির দাবি, তারা ফুটবল ‘বিক্রি’ করছে না; বরং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং এর সংখ্যালঘু মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেপি মরগানের ২৫ পৃষ্ঠার একটি নথিতে ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে ফিফার প্রতিটি সদস্য সংস্থার জন্য সম্ভাব্য ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো পর্যন্ত আর্থিক সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এতে নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো উল্লেখ নেই।
এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল এখনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। আফ্রিকার সিএএফ ও ওশেনিয়ার ওএফসি আগামী আগস্টে নিজ নিজ সভার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
উয়েফা এরই মধ্যে অভিযোগ করেছে, পরিকল্পনাটি একটি ছোট গোষ্ঠীর আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির ভাষায়, ‘বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয়। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম খেলোয়াড়, জাতীয় দল ও কোটি কোটি সমর্থকের অবদানে গড়ে ওঠা ফুটবলের অন্যতম মূল্যবান ঐতিহ্য। এটি কখনোই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
মতামত দিন