Views Bangladesh Logo

এমপি আমির হামজার বাড়ি ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর তার বাড়ির আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর এবং তিনি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে এমপির বাড়ি ঘিরে হামলা বা ভাঙচুরের আশঙ্কায় থানাপাড়ায় তার বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সম্প্রতি আমির হামজার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার বিকালে ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটির কুষ্টিয়া জেলা শাখা। সমাবেশস্থলের কাছেই সংসদ সদস্যের বাসভবন।

সমাবেশ শেষ হওয়ার দিকে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে আমির হামজা ওই এলাকা দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। তার গাড়িবহর সমাবেশস্থলের কাছে পৌঁছালে এমপির সমর্থকদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

এ সময় আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সাতজন ও গণঅধিকার পরিষদের তিনজন রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, এমপি আমির হামজা আমাদের গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে বলেছেন, এই দল দুজনের, এ ছাড়া তাদের আর কোনো লোকজন নেই। এ ছাড়া তিনি আরও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আমাদের সংগঠন নিয়ে কথা বলেছেন। এর প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় আমির হামজার সমর্থকরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

তবে আমির হামজার দুই কর্মীর দাবি, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাই প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালান। তারা হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন।

সংসদ সদস্য আমির হামজা অভিযোগ করে বলেন, তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে একটি কর্মসূচিতে ছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে জানতে পারেন, তার বাবা-মাকে নিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে। পরে তিনি সদর থানার ওসিকে ফোন করেন।

আমির হামজা বলেন, ওসির গাড়ি আগে এবং আমার গাড়ি পেছনে ছিল। এ সময় অতর্কিতভাবে আমার গাড়িতে লাঠি-হকিস্টিক দিয়ে হামলা করা হয়। গাড়ির সামনে বসে থাকা আমার চাচার পা কেটে যায় এবং আমি মাথায় আঘাত পেয়েছি।

এ হামলার জন্য তিনি গণঅধিকার পরিষদের জেলা নেতা আব্দুল খালেক ও তৌকির আহমেদকে দায়ী করে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আজকেই মামলা করব।’

এদিকে সংঘর্ষের পর আমির হামজার বাড়ির সামনে তার কয়েকশ কর্মী-সমর্থক অবস্থান নেন। গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরাও সেখানে ছিলেন বলে জানা গেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এমপির বাড়ি ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাতব্বর হোসেন বলেন, সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার স্বার্থে তার বাড়ির আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৫টার পর বাড়িটি ঘেরাও হতে পারে—এমন একটি আশঙ্কার খবর পেয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এমপির বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ