মাদক উদ্ধারের ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে ওএসডি
রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় ভাড়া দেওয়া একটি বাসায় মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনার পর অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
মঙ্গলবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁকে পুলিশ সদরদপ্তরের সদরদপ্তর শাখায় সংযুক্ত করা হয়। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল জহির পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় তাঁর ভাড়া দেওয়া একটি বাসায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে আইস, সিসা, ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও কুশসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় ২৬ নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এ কারণে সেখানে অভিযান চালানো হয়। বাসাটি ওই পুলিশ কর্মকর্তা ভাড়া দিয়েছিলেন, তবে তিনি সেখানে থাকতেন না।
ডিবি সূত্র জানায়, ৩০০ ফিট এলাকার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১-এ আবদুল্লাহ আল জহিরের একটি প্লট রয়েছে। সেখানে পাঁচটি কক্ষ নির্মাণ করে অনলাইন ভাড়ার প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবিতে দেওয়া হয়েছিল। ওই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা কক্ষগুলো ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টি ও মাদক সেবনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়াতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি পার্টির বিভিন্ন আলামত এবং কয়েকটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে বলে ডিবি সূত্র জানিয়েছে। কক্ষগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাহবুব নামের এক ব্যক্তিসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়।
তবে বাড়িটি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন আবদুল্লাহ আল জহির। তিনি বলেন, সোমবার একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানের জন্য বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। ভাড়া নেওয়ার সময় কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, তা জানিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম ভাঙলে এক লাখ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে।
তিনি বলেন, ভাড়া নেওয়া ব্যক্তিরা নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। এ ঘটনায় তাঁদের কেউ সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন তিনি।
মতামত দিন