বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে চিংফেং ঝাংকে নিয়োগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এডিবির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সংস্থাটির অংশীদারত্ব আরও জোরদার করবেন, কৌশলগত নীতিসংলাপে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে ভূমিকা রাখবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ঝাং জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগামী দিনে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এডিবি।
টেকসই উন্নয়ন খাতে চিংফেং ঝাংয়ের ৩০ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ বছরের বেশি সময় তিনি এডিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানি সম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে একাধিক কৌশলগত কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছেন। সর্বশেষ তিনি এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
চীনের নাগরিক চিংফেং ঝাং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ প্রকৌশলে ডক্টরেট, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্য হয়। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে সংস্থাটির সরকারি ও বেসরকারি খাতের চলমান অনুদান ও প্রকল্প-অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছে এডিবি। আগামী কয়েক বছরে টেকসই প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
মতামত দিন