Views Bangladesh Logo

দারিদ্র্য বিমোচনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান এডাবের

বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ (এডাব)। সভায় বক্তারা বলেছেন, কর্মসংস্থানের অভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে দেশে দারিদ্র্য বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, দাতা সংস্থা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এডাবের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রোকেয়া জাহান রেবা। প্রধান অতিথি ছিলেন এডাবের চেয়ারপারসন আনোয়ার হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (এনআরডিএস) নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আওয়াল, ভিউজ বাংলাদেশের বার্তা সম্পাদক মারিয়া সালাম, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আ. ফ. ম. মুনজুরুল হক এবং প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক কাজী জুলফিকারা বেগম পুষ্প।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এডাবের পরিচালক (কর্মসূচি) মো. কাউসার আলম (কনক)। আলোচনায় অংশ নেন ডেভেলপমেন্ট হুইলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব এলাহী, এডাবের কোষাধ্যক্ষ শাহ আব্দুস সালাম এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সৈয়দা শামীমা সুলতানা। সভা পরিচালনা ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন এডাবের নির্বাহী পরিচালক একেএম জসীম উদ্দিন। এতে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, কর্মসংস্থানের অভাব, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি, বৈশ্বিক যুদ্ধ, মাটিদূষণ, ভেজাল খাবার, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তাঁদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

দারিদ্র্য কমাতে সরকারি নীতিতে পরিবর্তন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রচার ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। তাঁরা কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি, নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা, কৃষির উন্নয়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানো, নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন, ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করা এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। দারিদ্র্য বিমোচনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে এডাবকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিশু ক্ষুধার্ত বা নিরক্ষর থাকবে না।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ