সাবেক ভূমিমন্ত্রীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে দুদকের টিম
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের আদেশে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্ল্যাটে প্রবেশ, সম্পদের তালিকা প্রস্তুত এবং রিসিভারের কাছে হস্তান্তর-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলছে।
এর আগে ২ জুলাই দুদকের পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) দুটি ফ্ল্যাটের রিসিভার নিয়োগ দিয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয় কমিশন। চিঠিতে বলা হয়, গুলশানের রোড-৬৬-এর একই ভবনের এ-৭ ও বি-৭ নম্বর দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রিসিভারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট দুটি রিসিভারের দখলে নেওয়া এবং মালামালের তালিকা তৈরির সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমান।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ার অভিযোগও আলোচনায় আসে।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। আর ১৩ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দুদকের তথ্যমতে, এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
মতামত দিন