পাঁচ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিশন পেল দুদক, নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান
দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিশন ফিরে পেল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করে নতুন কমিশন গঠন করেছে সরকার। তাঁর সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
নতুন কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সচিব হিসেবে অবসর নেন। অন্য কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এনবিআরের সাবেক কর কমিশনার। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে গত ৩ মার্চ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর কমিশন কার্যত শূন্য হয়ে যায়। নতুন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়।
দুদক আইন অনুযায়ী বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন কমিশনের সদস্য বাছাইয়ে কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা ও জীবনবৃত্তান্ত পর্যালোচনা করে। নতুন নিয়োগের ফলে চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্যের কমিশন নিয়ে আবারও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরল দেশের দুর্নীতিবিরোধী সাংবিধানিক সংস্থাটি। আইন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের বিচারকের সমান বেতন, ভাতা ও পদমর্যাদা এবং কমিশনাররা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
মতামত দিন