মিলানের প্রতীক, ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই
ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই। ৬৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুর খবর আজ শুক্রবার জানিয়েছে সাবেক ক্লাব এসি মিলান। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন আশি ও নব্বইয়ের দশকে ইতালিয়ান ফুটবলের সোনালি যুগের এই প্রতিনিধি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে মিলান জানায়, ‘ফ্রাঙ্কো বারেসির প্রয়াণে অশ্রুসিক্ত মিলানের পুরো ইতিহাস। তাঁর আদর্শ ও সততা ক্লাবের ডিএনএতে চিরকাল খোদাই করা থাকবে, ঠিক যেমন অমর হয়ে আছে তাঁর ঐতিহ্যবাহী ৬ নম্বর জার্সিটি। এই কঠিন সময়ে বারেসির পরিবারের প্রতি এসি মিলান যে সমবেদনা জানাচ্ছে, তা প্রতিটি রোসোনেরি সমর্থকের—যাঁরা এই ক্ষতিকে নিজেদের ক্ষতি বলেই অনুভব করছেন।’
গত বছর মিলান জানিয়েছিল, বারেসির ফুসফুস থেকে একটি নডিউল অস্ত্রোপচার করে সরানো হয়েছে এবং ক্যানসার বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। শেষ কয়েক দিন তাঁর অবস্থা গুরুতর ছিল।
বারেসির পুরো ২০ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ার কেটেছে একটিমাত্র ক্লাবে। ১৯৭৭ সালে মিলানে যোগ দিয়ে ১৯৯৭ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন ৭০০-র বেশি ম্যাচ, অধিনায়কত্ব করেছেন টানা ১৫ মৌসুম। এই সময়ে জিতেছেন ছয়টি সিরি আ শিরোপা ও তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ। মার্কো ফন বাস্তেন, ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড ও রুড গুলিতের সঙ্গে গড়ে তোলা সেই মিলান দলকে অনেকেই ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলে মনে করেন।
তাঁর আনুগত্যের পরিচয় মিলেছিল ক্যারিয়ারের শুরুতেই। আশির দশকের গোড়ায় মিলান দুবার সিরি বি-তে অবনমিত হয়; দুবারই ক্লাব ছাড়েননি বারেসি, বরং দলকে শীর্ষ লিগে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখেন। অবসরের পর মিলান তাঁর ৬ নম্বর জার্সি তুলে রাখে—ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম কোনো খেলোয়াড় এই সম্মান পান।
জাতীয় দলের হয়ে ১৯৮২ বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন বারেসি। তবে জাতীয় দলে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ, যেখানে তাঁর নেতৃত্বে ফাইনালে ওঠে ইতালি। ওই ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে হারে দলটি, আর যাঁরা পেনাল্টি মিস করেছিলেন তাঁদের একজন ছিলেন বারেসি নিজেই। কিন্তু ম্যাচটি ইতিহাসে থেকে গেছে অন্য কারণে—হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের মাত্র ২৫ দিন পর সেই ফাইনালের পুরো ১২০ মিনিট খেলেছিলেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবনের পরও মিলানের সঙ্গেই থেকে গেছেন বারেসি, দায়িত্ব পালন করেছেন ক্লাবটির সম্মানসূচক সহসভাপতি হিসেবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিলানো কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অলিম্পিক মশাল বহন করেন তিনি; সঙ্গে ছিলেন মাঠের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী, ইন্টার মিলান ও ইতালির সাবেক ডিফেন্ডার জুসেপ্পে বেরগোমি।
সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের আলোচনায় বারেসির নাম অনিবার্যভাবে আসে। তাঁর মৃত্যুতে বিশ্ব ফুটবলে শোকের ছায়া নেমেছে।
মতামত দিন