বদলে গেল আবাহনী মাঠের নাম
বৃহস্পতিবার থেকে বদলে গেছে রাজধানীর ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী মাঠের নাম। এখন থেকে মাঠটির নাম ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ। একই সঙ্গে মাঠটির দায়িত্বও আবাহনী ক্লাবের কাছ থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
লিজ বাতিল করে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে মাঠটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এখন থেকে মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মাঠটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
একই প্রক্রিয়ায় ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের মাঠের দায়িত্বও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।
পরে সচিবালয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘মাঠ বাবদ আবাহনী ক্লাবের দুই বছরের ফি বকেয়া আছে। তারা ২০২৩ সালের পর আর ফি দেয়নি। ২০২৪ সালের ফি জমা করার রসিদ দেখা যাচ্ছে, তবে সেটা চুক্তি বাতিল করার পর দেওয়া হয়েছে।’
ধানমন্ডির এই মাঠটি ৯৯ বছরের জন্য আবাহনী ক্লাবকে দেওয়া হয়েছিল। টানা দুই বছর ফি বকেয়া থাকায় চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
মাঠের দায়িত্ব হারানোর বিষয়ে আবাহনী ক্লাবের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ নিয়ে কথা বলতে চাই না। সরকার যা ভালো মনে করেছে তাই করেছে। এখানে আর কী বলার আছে।’
এদিকে গৃহায়ণমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের দাবি করেন, ‘ধানমন্ডির মাঠে (আবাহনী মাঠ) তারা স্থাপনা তৈরি করেছে, অথচ আমাদের ও রাজউকের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি।’
২০২২ সাল থেকে সেখানে শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চলছে। এর পাশেই খেলোয়াড়দের থাকার জন্য একটি আবাসিক স্থাপনাও তৈরি করা হয়েছে।
ধানমন্ডি মাঠের সঙ্গে নিজের খেলাধুলার স্মৃতিচারণ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘ধানমন্ডি মাঠ, যেটি আবাহনী মাঠ নামে পরিচিত, এবং ৮ নম্বরের ধানমন্ডি মাঠ—দুটোতেই আমি ট্রেনিং করেছি। দুটো মাঠেই আমি খেলাধুলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৭ বছর ধরে আবাহনী ও ধানমন্ডি ক্লাবকে যেভাবে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের ক্ষোভ আপনারাও দেখেছেন। আমরা মনে করি, দুটো ক্লাবের অনেক ঐতিহ্য আছে, সেগুলো ধরে রাখতে হবে। স্বৈরাচারের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তারা ক্লাবের কেউ নয়। যারা ক্লাবের আসল লোক, তাদের দিয়ে ক্লাব চলবে।’
অনেক দিন ধরে শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স তৈরির কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে তৈরি হওয়া অবকাঠামো ভাঙতে চান না ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অবকাঠামোগুলো ভেঙে ফেলতে চাই না। সেগুলো রেখে কীভাবে সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। চুক্তিটা যে বাতিল হয়েছে, এটাকে মুখ্য করে না দেখে সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে ক্লাব পরিচালনা করার কথা বলেছি আমি।’
মতামত দিন