Views Bangladesh Logo

একটি অংশ রাবেয়া সিরাজ উচ্চ-বিদ্যালয় থেকে রাবেয়া সিরাজের নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল: সারওয়াত সিরাজ

টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চ-বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং অভিভাবক সমাবেশে মঙ্গলবার বক্তারা বলেন, এই এলাকার একটি অংশ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত শাজাহান সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজের নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। তিনি বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সহ-সভাপতি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র শাফি খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশেও গুরুত্ব দিতে হবে। একটি সুন্দর ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চ-বিদ্যালয় নামের এই স্কুলের একটি করুন ইতিহাস আছে।

তিনি বলেন, "এই এলাকার একটি অংশ আমার মায়ের নামে স্কুলটি মেনে নিতে পারেনি। তারা আমার মায়ের নাম এই স্কুল থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছেন। আইনী লড়াই করে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের ২২ তারিখে আমরা জয়লাভ করেছি। মহেলা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি রাবেয়া সিরাজ উচ্চ বিদ্যালয় নামে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"

এর আগে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেছ উদ্দিন বিদ্যালয়টির বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু ইউসুফ। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ