Views Bangladesh Logo

চিকিৎসায় ৯৫ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী সুস্থ হয়: ডা. আয়শা আক্তার

চিকিৎসা নিলে ৯৫ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী সুস্থ হয় বলে জানিয়েছেন শ্যামলী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার।

তিনি বলেন, বিশ্ব জুড়েই যক্ষ্মার প্রকোপ বেড়েছে। বাংলাদেশও বাড়ছে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা। যক্ষ্মা শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, গ্রাম ও শহরের উচ্চ আয়ের মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ২০২৪ সালে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসে প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে গড়ে প্রতিদিন এক হাজার ৩৮ জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এরমধ্যে গড়ে ১৩ জন ওষুধে সুস্থ হচ্ছেন। যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে মারা যাচ্ছেন ১১৫ জন।

সম্প্রতি ভিউজ বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে ডা. আয়শা আক্তার এসব তথ্য জানান।

এই চিকিৎসক বলেন, রোগটি শুরুতে ধরা পড়লে এবং নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে ৯৫ শতাংশ মানুষই সুস্থ হয়ে যান।

জানা গেছে, প্রতিবছরের ২৪ মার্চ সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়। গত বছর যক্ষ্মা দিবসের স্লোগান ছিলো, ‘হাঁ আমরা যক্ষ্মা নির্মূল করতে পারি।’ প্রতিবছর সামাজিক সচেতনতা বাড়াতেই যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়।

ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্যামলী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে চিকিৎসা নেয়াদের মধ্যে পুরুষ রোগী ছিলেন ৩১ হাজার ৭৬১ জন। নারী রোগী ছিলেন ২৫ হাজার ৫০২ জন। আর শিশু রোগী ছিলো ৪ হাজার ৯০৫জন। ২০২৩ সালে সর্বমোট রোগী ছিলেন ৯২ হাজার ৬৬০ জন। ২০২২ সালে ছিলেন ৭৪ হাজার ৭৭৩ জন। ২০২১ সালে ৫ হাজার ৬৬৬ জন এবং ২০২০ সালে যক্ষ্মা রোগী ছিলেন ৪ হাজার ৩৫৪ জন।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা সারা দেশে আনুমানিক ৩ লাখ ৭৯ হাজার। ২০২৩ সালের সমীক্ষায় ৩ লাখ ১ হাজার ৫৬৪ রোগী শনাক্ত করেছে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি।

অন্যদিকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে শনাক্ত রোগীর মধ্যে শতকরা ৫৬ শতাংশ পুরুষ আর নারী রয়েছেন ৪২ শতাংশ। যেখানে দৈনিক যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮২৬ জন এবং মারা গেছেন ১৯ জন।

ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ১৯৯৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যক্ষ্মাকে গ্লোবাল ইমার্জেন্সি ঘোষণা করার পর থেকেই বাংলাদেশে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো যক্ষ্মার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, যক্ষ্মা ছোঁয়াচে রোগ নয়, চিকিৎসায় যক্ষ্মা ভালো হয়। ধূমপান যক্ষ্মা হওয়ার একমাত্র কারণ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এইচআইভি, ডায়াবেটিস এবং কিডনি রোগ থাকলেও যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই জন্মের পরই শিশুদের বিসিজি টিকা দেয়া হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ