Views Bangladesh Logo

এবার রাজশাহীতে ৯৪১৪৩ হেক্টর জমিতে গম চাষ

রাজশাহী অঞ্চলের নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে এবার মোট ৯৪ হাজার ১৪৩ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে। গত বারের তুলনায় এবার সামান্য বেড়েছে গম চাষের পরিমাণ।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর উপজেলার ভাগাইল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, গম চাষের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। গত বছরের মতো এ বছরও রাজশাহীতে গমের ব্যাপক চাষ হয়েছে। গমের সবুজ পাতার সমারোহ রাজশাহী অঞ্চলের মাঠ জুড়ে দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গমচাষিরা আশা করছেন এবার প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ করে গমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে বাজারে তুলনামূলক অনেক বেশি দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার যারা গম চাষ করছেন তারা স্বাবলম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, অনেক কৃষক আমন ধান তোলার পরে অনেক চাষি আলু বা সরিষার আবাদ না করে গম চাষ করেছেন।

জেলার বিভিন্ন মাঠে ঘুরে দেখা যায়, গম চাষের সমারোহ মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে। চার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় প্রতিটি মাঠে ব্যাপক হারে গমের চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে কৃষক আলু চাষের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। যার ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গমের চাষ। কিন্তু গত কয়েক বছরে রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় ভালোই গমের আবাদ হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুরের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, গম চাষ করে গত বছর ভালো ফলন হয়েছে। গত বার দেড় বিঘা জমিতে গম চাষ করে পেয়েছেন ১৫ মণ। আশা করছি এবারও ভালো হবে।

একই এলাকার গমচাষী ফরহাদ আলী বলেন, এ বছর ধান চাষ না করে সেই জমিতে গম চাষ করেছি। গমের চাষ খুব ভালো হয়েছে। গম চাষ করতে প্রতি বিঘা খরচ হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। দাম বেশি না হলে আরও খরচ কম হতো। এবার গম চাষে তেমন রোগবালাই নাই। কিন্তু পেয়ে বসেছে ইঁদুর। কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। গমের গাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে রাজশাহী জেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে ৯১ হাজার ৩৭৭ মেট্রিক টন।

নওগাঁ জেলায় ১৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে ৬২ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৪ হাজার ৩৯৭ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন। নাটোর জেলায় ২৭ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৭ মেট্রিক টন। চার জেলার মোট উৎপাদন ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন।

২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে রাজশাহী জেলায় ২৩ হাজার ৪৯২ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে ৯৯ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন। নওগাঁ জেলায় ১৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে ৬৪ হাজার ৬৫৫ মেট্রিক টন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৬ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে ১লাখ ৭ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন।

নাটোর জেলায় ২৫ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন। চার জেলার মোট উৎপাদন ৩ লাখ ৮৮ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় ২৩ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে। নওগাঁ জেলায় ১৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩১ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে। নাটোর জেলায় ২১ হাজার ৩৭ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে। চার জেলার মোট উৎপাদন ৯৩ হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে। এই অর্থ বছরের ফলনের হিসাব পাওয়া যায়নি।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় ২৩ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে। নওগাঁ জেলায় ১৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে।

নাটোর জেলায় ২১ হাজার ৫০১ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে। চার জেলার মোট উৎপাদন ৯৪ হাজার ১৪৩ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছে। এই অর্থ বছরের ফলনের হিসাব পাওয়া যায়নি।

রাজশাহীর পবা উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল রাজ্জাক ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, আগামীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে গমের বাম্পার ফলন হবে। আটার চাহিদা মেটাতে এ অঞ্চলে বেশি জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। গম চাষে কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, সার, সেচ ও উন্নতমানের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, এবার গমে কোন ধরনের রোগবালাই শনাক্ত হয়নি। ফলে ভালো ফলনের আশা করছি। সার ব্যবস্থাপনা খুব ভালো ছিল। কৃষককে কোন ধরনের ভোগান্তিতে পড়েনি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ