Views Bangladesh Logo

তিন ক্যাটাগরিতে ৯০ প্রবাসীকে দেওয়া হবে সিআইপি মর্যাদা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বাণিজ্যে অবদানের স্বীকৃতি দিতে নতুন করে তিন ক্যাটাগরিতে ৯০ জনকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত করবে সরকার। এর মধ্যে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ জনকে সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হবে।

২০২৭ সালের সিআইপি নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে যোগ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ৩০ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ ভবন থেকে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৮’ অনুসারে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৯০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শিল্পখাতে সরাসরি বিনিয়োগকারী হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচজন সিআইপি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্পখাতে অন্তত ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিনিয়োগ করা থাকতে হবে।

বৈধ পথে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৫ জনকে সিআইপি নির্বাচিত করা হবে। এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি পণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ জনকে সিআইপি করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে অন্তত ৩ লাখ ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে সম্পৃক্ত থাকার শর্ত রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিআরসি বা প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বেশি মূল্য সংযোজনসম্পন্ন বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। দূতাবাস, মিশন বা মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হার্ড কপি জমা দেওয়ার সুযোগও নেই।

অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। পাশাপাশি কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই আবেদন বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাতিল কিংবা স্থগিত করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো, বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং দেশের পণ্য রপ্তানিতে অবদানকে উৎসাহিত ও স্বীকৃতি দেওয়ার অংশ হিসেবেই এই সিআইপি নির্বাচন করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর স্বীকৃতি হিসেবে ৩২৬ জন বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি থেকে শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জনসহ মোট ১৪৯ জন প্রবাসী সিআইপি হয়েছেন। একই সময়ে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরও ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ