জাহাজের ট্যাংক লিকেজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু: ফেরদৌস স্টিলের সব কার্যক্রম স্থগিত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে পুরোনো জাহাজের ট্যাংকে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর পর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসআরবি)।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএসআরবির মহাপরিচালক এসএম শফিউল আলম তালুকদার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিপইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এসএম শফিউল আলম বলেন, শুক্রবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত শিপইয়ার্ডটি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। হংকং কনভেনশন সনদপ্রাপ্ত এই শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তাবিধি অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিলের শিপইয়ার্ডে নোঙর করা একটি পুরোনো জাহাজের ট্যাংকে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে কাজ করা শ্রমিকেরা বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির নাম ‘এমটি রাসি’। প্রায় ২৮০ মিটার দীর্ঘ ও ৪৩ মিটার প্রস্থের জাহাজটি গত বছরের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে নোঙর করে। পরে ১৩ জুলাই জাহাজটি ভাঙার জন্য ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে আনা হয়।
শিপ রিসাইক্লিং সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরোনো জাহাজের ট্যাংক বা আবদ্ধ স্থানে অবশিষ্ট গ্যাস ও বিষাক্ত বাষ্প শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের স্থানে কাজ শুরুর আগে গ্যাস পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ডটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিএসআরবি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইয়ার্ডটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মতামত দিন