Views Bangladesh Logo

বিদ্যালয় থেকে নিয়ে ৯ শিশুকে পাশের উপজেলার গুদামে আটকে রাখার অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুরে মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ডেকে নিয়ে নয় শিক্ষার্থীকে প্রায় ৮ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন কিশোর তাদের পাশের শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকার একটি মুরগির খামারের গুদামে নিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে। পরে অভিভাবকেরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার সমাবেশে ওই নয় শিক্ষার্থীর মধ্যে আটজন উপস্থিত ছিল। চতুর্থ ঘণ্টার ক্লাসে তাঁদের না পেয়ে শ্রেণিকক্ষে বইয়ের ব্যাগ পাওয়া গেলেও শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। বিদ্যালয়ের আশপাশে খোঁজ করেও তাঁদের সন্ধান না পেয়ে বিকেল তিনটার দিকে অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুয়ারা পারভীন বলেন, শিক্ষার্থীরা কোথায় গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরে অভিভাবকেরা তাঁদের খোঁজ শুরু করেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিয়াম জানায়, এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ১০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে তাদের বিদ্যালয় থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে ইজিবাইকে করে গ্রামের পশ্চিম পাশে নেওয়া হয়। সেখানে ওই কিশোরের সঙ্গে আরও দুজন যোগ দেয়। এরপর তাদের শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল বাজারের উত্তর পাশে একটি মুরগির খামারের গুদামে নিয়ে শাটার বন্ধ করে রাখা হয়। বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয় বলেও জানায় সিয়াম।

গুদামে আটকে থাকা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল হান্নান ও রিফাত হাসান জানায়, টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে তারা দুজন গুদাম থেকে বের হয়ে একটি গাড়িতে করে মহিপুর বাজারে আসে। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়। পরে অভিভাবকেরা ওই গুদামে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। এ সময় জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় বলে অভিভাবকদের দাবি।

ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অন্তত ৫০ জন অভিভাবক। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীরা কীভাবে বাইরে চলে গেল, তা শিক্ষকদের নজরে আসেনি। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক শিক্ষার্থীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা পাঁচজনের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছর। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ