‘ঝুঁকিতে’ ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্র: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তার দিক থেকে মোট ভোটকেন্দ্রের ৫৯ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আসন্ন নির্বাচনে দেশে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ ভোটকেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি।
এক সাংবাদিক জানতে চান, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ভোটকেন্দ্র বলতে কি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বোঝানো হচ্ছে? জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ মানে হলো যেগুলো নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ।’
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব কেন্দ্রে পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌ-বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, পুলিশ ও আনসার ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং র্যাবের সমন্বয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ মঙ্গলবারের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, “এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।”
নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন হিসেবে ড্রোন ব্যবহারের কথাও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিভিন্ন বাহিনী মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি, নৌ-বাহিনী ১৬টি, বিজিবি ১০০টি, পুলিশ ৫০টি, কোস্ট গার্ড ২০টি, র্যাব ১৬টি এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ১৬টি ড্রোন ব্যবহার করবে।
এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাহিনীর ডগ স্কোয়াডও ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত এই অ্যাপের সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম সংযুক্ত থাকবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকার সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে