মা–বাবা ঋণের চাপে এলাকাছাড়া, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। আনু মিয়া নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার বিকেলে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আনু মিয়া ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা হলেও একই ইউনিয়নের অন্য একটি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে সেখানেই শিশুটিকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঋণের কারণে শিশুটির মা–বাবা প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় নেই। এ কারণে শিশুটি তার চাচা ও চাচির কাছে থাকছে। ঘটনার দিন শিশুটিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আনু মিয়া ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। শিশুটির সঙ্গে থাকা আরেক শিশুকে ৫০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। এরপর শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন আনু মিয়াকে আটক করেন। পরে তাকে একটি বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ওই দিনই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও ওই ব্যক্তি তার সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনু মিয়া। স্থানীয় লোকজন তাকে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখার সময় তিনি দাবি করেন, শিশুটি তার কাছে তরকারি নিতে গিয়েছিল। শিশুটির ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের চেষ্টা করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার দিন ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মনোহরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুনয়ন বড়ুয়া আরেক উপপরিদর্শকসহ ঘটনাস্থলে যান। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনু মিয়াকে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পায়নি; স্থানীয়রা তাকে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানতে পারে। পরে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানায়। পুলিশ তাদের থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে আসে।
শুক্রবার বিকেলে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদ আহমেদ বলেন, এমন একটি ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে তখন পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শিশুটির মা–বাবা ঋণের কারণে এলাকাছাড়া—এ বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে আবার পুলিশ পাঠানোর কথা জানান।
পরে বিকেল পাঁচটার দিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শিশুটির মা–বাবা এলাকায় না থাকায় তার চাচা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আনু মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
সন্ধ্যায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদ আহমেদ জানান, আনু মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
মতামত দিন