Views Bangladesh Logo

সীতাকুণ্ডের জঙ্গলে গলাকাটা অবস্থায় হাঁটছিল শিশু ইরা

জঙ্গলে গলাকাটা অবস্থায় হাঁটছিল শিশু ইরা। গলা থেকে ঝরছিল রক্ত। পুরো জামা রক্তে ভেজা। শিশুটির দেহের নিচের অংশে কাপড় ছিল না। এমন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন কয়েজন শ্রমিক। তাৎক্ষণিকভাবে একটি ট্রাকে তুলে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের গভীর অরণ্যে। রোববার (১ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে এক স্ক্যাভেটর চালক মাটি কাটার সময় লক্ষ করেন, রক্তাক্ত শিশুটি টলমল পায়ে হেঁটে রাস্তার দিকে এগোচ্ছে। দেখেই তিনি স্থানীয় শ্রমিকদের ডাকেন। যুবক রবিউল হাসান ও আরিফুল ইসলাম রনি দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটির গলার কাটা অংশ কাপড় দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে নেন।

ইরা কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টার পাড়ার নুর ইসলামের কন্যা। সে মসজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

হাসপাতালের শয্যায় শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে ইরার। সে জানায়, এক ব্যক্তি তাকে ইকোপার্ক এলাকায় নিয়ে এসেছিলেন। নাম বলতে পারছে না। তবে তাকে দেখলেই চিনতে পারবে বলে ইশারায় জানিয়েছে।

রবিউল হাসান ও আরিফুল ইসলাম রনি বলেন, আমরা জঙ্গল এলাকায় সড়কের কাজ করছিলাম। এক সময়ে স্ক্যাভেটর চালক লক্ষ্য করেন, রক্তমাখা একটি ছোট মেয়ে হেঁটে আসছে। আমরা তাকে দ্রুত আমাদের কাছে আনি। যতটা সম্ভব রক্ত থামিয়ে তাকে নিরাপদে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাব হোসেন বলেন, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তার শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় সে কথা বলতে পারছে না। প্রাথমিক আলামত ও পোশাকের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শিশুটির গলা কেটে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে জঙ্গলে নিয়ে এ নৃশংস কাজটি করা হয়েছে এবং অপরাধীরা হয়তো তাকে মৃত ভেবে ফেলে দিয়েছে। হাসপাতালে আনার পর ইরা অনেক কষ্টে নিজের নাম ও পরিচয় জানিয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ