Views Bangladesh Logo

মাদ্রাসায় ৬ মাসে ৬ জনের বলাৎকারের শিকার, এখনো ‘মানসিক ট্রমায়’ শিশুটি

সাভারের একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। শিশুটির পরিবারের দাবি, এ সময় ছয়জন তাকে বলাৎকার করেছে। নির্যাতনের কারণে শিশুটি শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি গুরুতর মানসিক ট্রমায় ভুগছে। ঘুমের মধ্যেও আতঙ্কে চিৎকার করে উঠে বলে, ‘আমার গলা ছেড়ে দাও।’

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ করে জানান, তার ছেলের চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকটের কারণে যথাযথ চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এ ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট মামলা করা হলেও অভিযুক্তরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

ভুক্তভোগী শিশুটি সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবার অভিযোগ, আরবি শিক্ষার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুদিন পর থেকেই নির্যাতনের ঘটনা শুরু হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রাফি শিশুটিকে টয়লেটে নিয়ে বলাৎকার করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ২৪ ফেব্রুয়ারি সায়েমও তাকে টয়লেটের সামনে একা পেয়ে বলাৎকার করেন। এরপর শিশুটির রুমের অন্য দুই শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ও মোহাম্মদ বিন মুক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। ১২ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আবু সাঈদ এবং ১৪ এপ্রিল দুপুরে মোহাম্মদ বিন মুক্তার শিশুটিকে বলাৎকার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২৫ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত শিশুটিকে জোর করে টয়লেটে নিয়ে গিয়ে হাসান বিন মোস্তফা বলাৎকার করেন। এ সময় কাউকে কিছু না জানানোর জন্য তাকে ভয় দেখানো হয়।

পরে মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন ঘটনাগুলো জানতে পারেন। অভিযোগ রয়েছে, ৪ জুলাই রাতে তিনিও শিশুটিকে বলাৎকার করেন। এ সময় তাকে গলাটিপে মারধর করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া শিক্ষক হাফেজ কামরুজ্জামান, ক্বারী রফিকুল ইসলাম ও জিয়া ইবনে কাসেম ঘটনাটি পরিবারসহ কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে মারধর ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

শিশুটির বাবা বলেন, তিনি সাভারের একটি পোশাক কারখানায় স্টোর কিপার হিসেবে কাজ করেন এবং তার স্ত্রী গৃহিণী। ছেলেকে আরবি শেখানোর জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে প্রায় ছয় মাস ধরে তার ছেলে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্যাতনের কারণে তার ছেলের পায়ুপথে ক্ষত হয়েছে এবং সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। প্রায় রাতেই ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে উঠে বলে, ‘আমার গলা ছেড়ে দাও।’

চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুটির চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও সীমিত আয়ের কারণে তা ঠিকমতো করাতে পারছেন না।

মামলায় মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন, হাফেজ সাব্বির, হাফেজ কামরুজ্জামান, ক্বারী রফিকুল ইসলাম ও জিয়া ইবনে কাসেম এবং শিক্ষার্থী রাফি, সায়েম, আবু সাঈদ, মোহাম্মদ বিন মুক্তার ও হাসান বিন মোস্তফাকে আসামি করা হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার মামলা করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ