গুম থেকে জীবিত ফেরা ৭৫ শতাংশ জামায়াত–শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপির
দেশে বিভিন্ন সময় গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরে এসেছেন, তাঁদের ৭৫ শতাংশই জামায়াত–শিবিরের নেতাকর্মী। এ ছাড়া ২২ শতাংশ ফিরে আসা ব্যক্তি বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
গুম–সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) গুম তদন্ত কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিদের্শে গুমের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে এ সংক্রান্ত ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি’।
কমিশনের দেওয়া প্রতিদেনের তথ্য অনুযায়ী, যারা এখনো নিখোঁজ তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।
কমিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোট ১ হাজার ৯১৩টি গুমের অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই–বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগকে মিসিং অ্যান্ড ডেড শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিশনের তথ্যমতে, বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে ওই নদীতে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জেও লাশ গুমের তথ্য উঠে এসেছে।
কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানান, গুমের প্রকৃত সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ভুক্তভোগী বা তাঁদের পরিবার এখনো কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কেউ কমিশনের বিষয়ে জানেন না, কেউ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। আবার অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা অনরেকর্ড বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
কমিশনের সদস্যরা জানান, বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় উল্লেখযোগ্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।
কমিশনের সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজেই একাধিক গুমের ঘটনায় সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের তথ্যও পাওয়া গেছে, যা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ ছাড়া সম্ভব নয়।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে