২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭৩৫৯ জন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৭৬ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৯৬২ জন এবং শিশু ১ হাজার ৮ জন। মোট নিহতের ৩৬ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।
এসব তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি এ পরিসংখ্যান তুলে ধরে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৫৮৪। একই সময়ে ১৩২টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৪৯ জন নিহত, ১২৩ জন আহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হন। এ ছাড়া ৫১৯টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৭৮ জন, আহত ১৫২ জন। সড়ক, রেল ও নৌ—এই তিন ধরনের দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯৮৬ জনে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৯২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৭ হাজার ২৯৪ জন। এক বছরে দুর্ঘটনা বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এবং সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭২ জন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৫ হাজার ৭২৩ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৭৮ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এসব যানবাহনের চালকদের বড় অংশ কিশোর ও যুবক। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে তারা নিজেরা যেমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, তেমনি অন্যদের জীবনও ঝুঁকিতে ফেলছেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, বাংলাদেশ পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ একাধিক সংস্থা কাজ করছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহির অভাবের কারণে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরছে না, দুর্ঘটনাও কমছে না। কেবল বৈঠক, কর্মশালা ও কমিটি গঠনের মধ্যেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে ১৩টি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অতিরিক্ত বোঝা বহন, চালকদের অদক্ষতা ও অসুস্থতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা, সড়ক অবকাঠামোর ত্রুটি, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা, এবং বিআরটিএর সক্ষমতা ও জবাবদিহির ঘাটতি। দুর্ঘটনা কমাতে সংস্থাটি ২১ দফা সুপারিশও দিয়েছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে