একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর বিদায়, শোকাহত পুরো গ্রাম
মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকা নিজের জীবনে বয়ে বেড়ানো একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী আর নেই। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বুধবার সকালে নিজ গ্রামে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম, রাণীশংকৈল থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় টেপরী রাণীর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে তাকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তুলে দিতে বাধ্য হন তার বাবা। এরপর টানা সাত মাস নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
স্বাধীনতার পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন টেপরী রাণী। সমাজের নানা কটূক্তি ও অবহেলার মধ্যেও তার বাবা মেয়ের পাশে দাঁড়ান। পরে জন্ম হয় ছেলে সুধীর বর্মনের। তবে দীর্ঘদিন ধরেই মা-ছেলেকে সামাজিক অপমান সহ্য করতে হয়েছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী। এরপর তার আত্মত্যাগের গল্প দেশজুড়ে আলোচিত হয়।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, টেপরী রাণীর জীবন মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অসীম ত্যাগের প্রতীক হয়ে থাকবে। আর তার ছেলে সুধীর বর্মন বলেন, দেশের জন্য মায়ের ত্যাগ কখনও ভোলার নয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে টেপরী রাণীর অবদান স্মরণ করবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে