বান্দরবানে শুরু মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসব
বান্দরবানে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই। রোববার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজারমাঠে বেলুন উড়িয়ে এই ছয়দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি।
উদ্বোধনের পর শহরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এতে মারমা, ম্রো, খুমি, খেয়াং, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, বম, লুসাইসহ ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণী, শিশু ও নানা বয়সের মানুষ নিজস্ব পোশাকে অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মারমা নারী-পুরুষরা অংশ নেন বয়স্ক পূজা অনুষ্ঠানে।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, “পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সম্পদ। পাহাড়ি-বাঙালি, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সৌহার্দ্যপূর্ণ বসবাস বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।” তিনি বলেন, “আজকের উৎসবে সব জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেব, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএসমং, সদর ইউএনও মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চনুমং মারমা, সদস্য সচিব থুইচপ্রু লুবু মারমা প্রমুখ।
ছয়দিনব্যাপী এই উৎসবে থাকছে নানা আয়োজন। দ্বিতীয় দিন (সোমবার) হবে বুদ্ধমূর্তি স্নানের ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ধর্মাবলম্বীরা খালি পায়ে হেঁটে সাঙ্গু নদীর তীরে গিয়ে শতবর্ষ পুরোনো কষ্টিপাথরের বুদ্ধমূর্তিতে পবিত্র জল ঢালবেন। শেষে প্রার্থনা করা হবে বিশ্বমঙ্গল কামনায়। রাতে বিহারে প্রজ্জ্বলিত হবে মঙ্গলপ্রদীপ, চলবে পিঠা উৎসব।
তৃতীয় দিন (মঙ্গলবার) রাজারমাঠে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা, তৈলাক্ত বাঁশে চড়া ও অন্যান্য লোকজ খেলা।
চতুর্থ দিন (বুধবার) হবে সাংগ্রাই উৎসবের মূল আকর্ষণ মৈত্রী পানি বর্ষণ বা জলকেলী উৎসব। বিকেল ৩টায় রাজারমাঠে শুরু হবে পানি ছিটানোর এই আনন্দঘন উৎসব। একইসঙ্গে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ দিন (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) চলবে জলকেলী উৎসবের বাকি পর্ব। মারমা তরুণ-তরুণীরা দলে ভাগ হয়ে অংশ নেবেন এই খেলায়। বিশ্বাস করা হয়, জলখেলীর মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে এবং অনেক সময় তা বিবাহবন্ধনে গড়ায়।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে মারমা শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এই উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেই উপভোগ করতে পারবেন এই প্রাণবন্ত সাংগ্রাই উৎসব।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে