Views Bangladesh Logo

৩ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৬৭ জন নিহত, আহত ১৯৯৯

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। বুধবার (১৪ মে) সংগঠনটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ধরনের ঘটনায় ১ হাজার ৯৯৯ জন আহত হয়েছেন।

অধিকারের প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মানবাধিকার কর্মীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তিন মাসে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় মোট ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি নিম্ন আদালত ২৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া আটটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা, দুইজনকে নির্যাতন এবং তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এদিকে কারাগারে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ছয়জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তা ছাড়াও চোর বা ডাকাত সন্দেহে জনতার হাতে ৩৩ জন নিহত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার তথ্য তুলে ধরে অধিকার জানায়, এই সময়ে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৭ জন আহত, ১০ জনের ওপর হামলা, একজন আক্রান্ত ও গ্রেপ্তার এবং পাঁচজন হুমকির শিকার হয়েছেন।

নারীদের ওপর সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌতুকের কারণে ১৪ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই সময়ে ২৫৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫০ জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু, ৫৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং ৫৩ জনের বয়স অজানা। এছাড়া ১২ জন নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

ওধিকার প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা; হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু (প্রতিরোধ) আইন, ২০১৩ কার্যকর করা এবং জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকল অনুমোদন; গুমের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন, জড়িতদের বিচার ও ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান; কারা কর্মকর্তাদের অনিয়ম, অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ; সকল পর্যায়ে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-সহ সকল দমনমূলক আইন অবিলম্বে বাতিল; নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা বন্ধ, দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা; এবং সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক সকল মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধসহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক মেনে চলা।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ