কেয়া গ্রুপে ৬২৭ শ্রমিক ছাঁটাই, সকালে কাজে এসে জানলেন চাকরি নেই
গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের ৬২৭ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে চাকরি হারানোর বিষয়টি জানতে পারেন অনেক শ্রমিক।
কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের এসব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের একজন মোসম্মৎ শিল্পী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানায় চাকরি করছি। তিন মাস ধরে কারখানা খুব ভালো চলে না। বেতনও বকেয়া হয়েছে। ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে, বাসাভাড়াসহ নানা খরচ আছে। অন্যদিনের মতো আজ সকালে কারখানায় এসে দেখি আমার চাকরি নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শ্রমিক বলেন, আমি কারখানায় ২০ বছর ধরে চাকরি করি। কোনো কিছু জানলামই না, আজ এসে দেখি আমার চাকরি নেই। তাহলে বকেয়া কে পরিশোধ করবে? আমরা তো এখনো মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে কথাই বলতে পারিনি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন ৬২৭ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কেয়া গ্রুপ কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের নোটিশের একটি কপি তাকে দিয়েছে।
কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের নিট কম্পোজিট ডিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের সই করা ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ না করায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনবল থাকার কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কারখানার অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছাঁটাই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী তাদের পাওনাদি পরিশোধ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের সব আইনসম্মত পাওনা আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
মতামত দিন