ছাত্রদল নেতাকে প্রধান অতিথি না করায় ৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধ
নাটোরের লালপুরে ৬০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে পছন্দের রাজনৈতিক নেতাকে প্রধান অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’—এমন মিথ্যা তথ্য মাইকিং করে খেলা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কেশবপুর গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা ছাত্রদল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কেশবপুর গ্রামে প্রায় ছয় দশক ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের ফাইনালে গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরাই বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এতে সাধারণত রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিদের অতিথি করা হয় না।
চলতি বছরও প্রায় ১৫ দিন আগে টুর্নামেন্ট শুরু হয়। স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাধিক দল এতে অংশ নেয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর টুর্নামেন্টের ফাইনাল আয়োজনের কথা ছিল।
আয়োজকদের অভিযোগ, টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী ফাইনালে গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলামকে প্রধান অতিথি এবং তাকে বিশেষ অতিথি করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রাখতে আয়োজকরা এতে রাজি হননি।
অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মারুফ আলী নিজ উদ্যোগে মাইক ভাড়া করে গ্রামে প্রচার চালান। মাইকিংয়ে বলা হয়, বিরোধের আশঙ্কায় প্রশাসন খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং সেখানে খেলাধুলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এমন প্রচারে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আয়োজকরাও খেলা আয়োজন থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গ্রামপ্রধান আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া কোনো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা যায় না। তার অভিযোগ, একজন ছাত্রদল নেতার মিথ্যা প্রচারের কারণে গ্রামের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজন বন্ধ হয়ে গেছে এবং সামাজিক পরিবেশও নষ্ট হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মারুফ আলী ১৪৪ ধারা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম। তিনি বলেন, খেলা বন্ধের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে মারুফকে ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে।
লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, এটি মারুফ আলীর ব্যক্তিগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এর দায় সংগঠন নেবে না। এরই মধ্যে জেলা ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে মারুফ আলীকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আয়োজক বা কোনো ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত দিন