Views Bangladesh Logo

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ৬ যুবক নিখোঁজ

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ট্রলারে গ্রিস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করার পর থেকেই তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নিখোঁজদের স্বজনেরা দিন-রাত উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

নিখোঁজ ছয়জন হলেন পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া ও মামুন খাঁন, রনসী গ্রামের মো. তালহা, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় পাল এবং দরগাপাশা ইউনিয়নের সিচনী গ্রামের সাগর পাল। পরিবারের সদস্যরা জানান, দালালের মাধ্যমে তারা লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সেখান থেকে ট্রলারে করে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রার পর থেকেই তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে একই যাত্রায় থাকা শান্তিগঞ্জের আরও চার যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তারা বর্তমানে মিশরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন দরগাপাশা ইউনিয়নের সিচনী গ্রামের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বুরুমপুর গ্রামের আলিম উদ্দিন এবং পাথারিয়া ইউনিয়নের আবু সাইদ ও আব্দুল করিম। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসাধীন চারজনের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল করিম এক ভিডিও বার্তায় জানান, ৪২ জন বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে ট্রলারে যাত্রা করেছিলেন। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌযানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তারা সাগরে ভাসতে থাকেন। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি না থাকায় ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। পরে তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন অন্যরা। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে জীবিতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা জানান, উন্নত জীবনের আশায় দালালদের মাধ্যমে বিপুল অর্থ খরচ করে তাদের স্বজনেরা লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। হৃদয় পালের বাবা রন্টু পাল জানান, লিবিয়াপ্রবাসী উমর আলী ও শান্তিগঞ্জের ডুংরিয়া গ্রামের কদ্দুস আলীর সঙ্গে ১৩ লাখ টাকায় চুক্তি করে তাঁর ছেলেকে প্রথমে ঢাকা থেকে ভারতে পাঠানো হয়। পরে শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে হৃদয়কে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নিখোঁজ তালহার চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান জানান, গত ২ আগস্ট তালহা পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে ৩ আগস্ট ভোরে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হবেন। এরপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নিখোঁজদের বিষয়ে খোঁজ নিতে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল হৃদয় পালের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ