হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়ালো
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ৮০৫ জন। একই সময়ে নতুন করে এক হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৭ জন। এর মধ্যে ১৩৩ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং ৯০৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৪১ জনে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জনের মধ্যে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৯৯ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে হাম সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। ডব্লিউএইচওর তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে হাম বা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ১৭৪ জন। একই সময়ে বিশ্বের ১৬৫টি দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার রোগী শনাক্ত হলেও এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী বাংলাদেশে পাওয়া গেছে।
সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাম সংক্রমণে বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যেখানে একই সময়ে ২৬ হাজার ৬০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর রয়েছে ইয়েমেন (১৪ হাজার ৫২১), মেক্সিকো (১২ হাজার ৪৯৫), পাকিস্তান (১১ হাজার ৩৭), ক্যামেরুন (৯ হাজার ৬৫৩), কাজাখস্তান (৭ হাজার ৭৩০), গুয়েতেমালা (৬ হাজার ৮৩২), অ্যাঙ্গোলা (৬ হাজার ৮১৫) এবং সুদান (৫ হাজার ৭৬৬)।
চলতি বছরের শুরুতে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিত হামের পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য প্রকাশ করছে।
মতামত দিন