Views Bangladesh Logo

দেশের পথশিশুদের ৫৮.২ শতাংশের জন্মসনদ নেই: কারিতাস বাংলাদেশ

দেশের পথশিশুদের ৫৮ দশমিক ২ শতাংশের কোনো জন্মসনদ নেই। একই সঙ্গে জন্মসনদবিহীন এসব শিশুর ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ তাদের পিতামাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার জানে না।

বুধবার (২০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক মিডিয়া পরামর্শ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে কারিতাস বাংলাদেশ। সভায় শিশু জন্মের পরপরই হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এবং পথশিশু ও অতিদরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য শর্তযুক্ত শিশু ভাতা চালুর দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কারিতাস ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক থিওফিল নকরেক। তিনি বলেন, সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগটি প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। তবে পরিবারহীন কিংবা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, ফুটপাত, বাজার ও বস্তিতে বেড়ে ওঠা শিশুরা এখনও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, জন্মসনদ না থাকা শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং মানবাধিকার সংকট। জন্মনিবন্ধন না থাকলে শিশুরা বিদ্যালয়ে ভর্তি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, সরকারি ভাতা পাওয়া এবং ভবিষ্যতে নাগরিক অধিকার ভোগের ক্ষেত্রেও নানা বাধার মুখে পড়ে।

মিডিয়া পরামর্শ সভায় আরও জানানো হয়, ‘রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে মোট জন্মনিবন্ধন হয়েছে ৮৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৩৩ জনের। তবে এর মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ শিশুর জন্মনিবন্ধন জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শিশুর জন্মের পরপরই হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সরাসরি জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ওয়ার্ডভিত্তিক বিশেষ ও মোবাইল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শতভাগ জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় বলা হয়, বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় মাসিক ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকার ভাতা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অত্যন্ত অপ্রতুল। এ জন্য পথশিশু ও অতিদরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ‘শর্তযুক্ত শিশু ভাতা’ চালুর দাবি জানানো হয়। এ ধরনের কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানো, শিশুশ্রমে যুক্ত না করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার শর্তে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

সভায় উপস্থিত পথশিশু প্রতিনিধিরা বলেন, ‘আমরা অনেক সময় না খেয়ে থাকি, হয়রানির শিকার হই। অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাই না। জন্মসনদ না থাকায় স্কুলে ভর্তি হতে পারিনি। আমাদের অনেকেই কাজ করতে বাধ্য হয়।’

সভায় কারিতাস বাংলাদেশের এসডব্লিউভিসি সেক্টরের ইনচার্জ চন্দ্র মনি চাকমা বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যর্থতাই একটি শিশুকে পথে নামায়। তাই পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের সবাইকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত মিডিয়া পরামর্শ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন– কুসুম গ্রেগরি, অসীম ক্রুজ এবং আশ্বনী প্রিন্স গমেজসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, পথশিশুদের প্রতিনিধি ও অভিভাবকরা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ