Views Bangladesh Logo

নির্বাচন ও গণভোট 'মারাত্মকভাবে ত্রুটিপূর্ণ' ছিল, দাবি ৫৫১ পেশাজীবীর

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট মারাত্মকভাবে ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে দাবি করে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশার ৫৫১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানান সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার এই নাগরিকরা। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের পক্ষে স্বাস্থ্য চিন্তা পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, অবৈধ ডা. ইউনূস সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট মারাত্মকভাবে ত্রুটিপূর্ণ, যা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে। নির্বাচনে জাল ভোটের ছড়াছড়ি, ভোটারবিহীন ফাঁকা ভোটকেন্দ্রের চিত্র, ভোটের দিনের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মারার মহোৎসব এই নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের ৫০ শতাংশের অধিক ভোটারদের সমর্থনধারী বাংলাদেশ জন্মের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও অন্যান্য প্রগতিশীল দলকে অবৈধ, অসাংবিধানিক পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে গঠিত ডা. ইউনূসের সরকার কোনো আইন, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের বাইরে রেখেছে। কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এই সত্যটি ফুটে উঠেছে।

এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের চেয়ারম্যান রোহানা হেতিয়ারাসসির বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় অন্তর্ভূক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় প্রভাব রেখেছে। তিনি নির্বাচনে জবাবদিহির সংকট ছিল বলেও উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই নির্বাচনে ২৫-৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি বলে আওয়ামী লীগ বিরোধী বলে পরিচিত সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে প্রকাশ পেয়েছে। বিবৃতিদাতারা মনে করিয়ে দেন, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচনে ৮৭.৫ শতাংশের অধিক ভোট পড়েছিল।

গণভোটের ফলাফল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় জাতি বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, কারচুপির সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশায় গণভোটের ব্যালট পেপারে সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়নি। উপরন্তু ব্যালটে ‘হ্যা’-এর পাশে ‘টিক’ ও ‘না’-এর পাশে ‘ক্রস’ চিহ্ন দিয়ে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’-তে সিল মারার জন্য প্রভাবিত করা হয়েছে। গণভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, একাধিক আসনে ১৭৫ থেকে ২৪৪ শতাংশ পর্যন্ত ভোট প্রদান করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ইউনূস সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করে নিজেদের পক্ষপাতদুষ্ট করে ফেলেছে এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

পেশাজীবীরা অবিলম্বে এই কারচুপিপূর্ণ ও বিভিন্ন অনিয়মে জর্জরিত অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে জাতির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, অন্তর্ভূক্তিমূলক রাজনীতি ও সমাজ গড়াকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক মোল্লা জালাল, সৈয়দ বদরুল আহসান, ফরিদা ইয়াসমিন, মঞ্জুরুল ইসলাম, সৈয়দ বোরহান কবীর, শাবান মাহমুদসহ ৯৭ জন সাংবাদিক। এ ছাড়া ডা. কামরুল আহসান, ডা. এস ইউ আহমেদ, ডা. রোকেয়া সুলতানাসহ ২৪৩ জন চিকিৎসক, অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. আ. ক. ম. জামাল উদ্দীনসহ ৯ জন শিক্ষাবিদ এবং ব্যারিস্টার নাভিদ ইসলাম, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ ২০২ জন আইনজীবী রয়েছেন।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ