বেনাপোল দিয়ে দুই দিনে ভারত থেকে এলো ৫২ টন কাঁচা মরিচ
দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই দিনে প্রায় ৫২ টন কাঁচা মরিচ দেশে এসেছে। আমদানি বাড়তে শুরু করায় বাজারেও দাম কিছুটা কমার আভাস মিলছে।
বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনটি ভারতীয় ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি এবং সোমবার রাতে আরও ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বন্দরে পৌঁছায়। সব মিলিয়ে দুই দিনে ৫১ হাজার ৪২০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৫২ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।
বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরপরই চালানগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। এসব মরিচ আমদানি করেছে শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারেও আরও কয়েকটি মরিচবাহী ট্রাক প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে প্রতি টন কাঁচা মরিচ ৩০৫ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হচ্ছে। এতে প্রতি কেজিতে প্রায় ১৩৫ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তিনি বলেন, সামান্য লাভ রেখে বাজারে বিক্রি করা হবে। তবে কাস্টমসের জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে নাসিক থেকে এসব মরিচ আসছে।
আমদানি শুরুর ইতিবাচক প্রভাব বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বেনাপোলের কাঁচাবাজারে সোমবার যেখানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে বর্তমানে দাম নেমে এসেছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের আশা, আমদানি আরও বাড়লে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম আরও কমবে।
অন্যদিকে, আমদানি নথি অনুযায়ী প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক যুক্ত হয়। তবে পরিবহন, বন্দর, কাস্টমস ও খালাসসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ হওয়ায় প্রকৃত আমদানি খরচ আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
মতামত দিন