৫৯ নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি নির্বাচনে, প্রচারণা শুরু মধ্যরাত থেকে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।
সভায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রায় ৩০০ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইইউর ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং তাদের মধ্যে দুজন মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন।
ইসি সচিব আরও জানান, আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন।
তিনি বলেন, সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এবারের নির্বাচনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় প্রতীকের ব্যালট, গণভোটের ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে গণনা করতে হওয়ায় ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এ নিয়ে যেন কোনো অপতথ্য বা গুজব না ছড়ায়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ভোটের দিন সব কেন্দ্রেই নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে।
সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানকালে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোট লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২.৪ শতাংশ। একই সময়ে লুট হওয়া ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদের মধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে, যা প্রায় ৫২ শতাংশ।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, এবারের নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করবেন। এতে বেআইনি কর্মকাণ্ড রোধ করা সহজ হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে। ভোটের চার দিন আগে সব বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং ভোটের পর আরও সাত দিন মাঠে থাকবে। আজ থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একাধিক টিম ২৪ ঘণ্টা মাঠপর্যায়ের তথ্য মনিটরিং ও রেকর্ড করবে। প্রয়োজনে ড্রোনও ব্যবহার করা হবে।
সভায় বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বডি ক্যামেরার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতায় বড় সাফল্য আসতে পারে। তিনি জানান, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রয়োজনে সাপ্তাহিক কিংবা আরও ঘন ঘন বৈঠক করা হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, কোস্ট গার্ড এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে