কোক স্টুডিওর শুটিংয়ে সোনারগাঁয়ের ৫০০ বছরের পুরোনো প্রত্নস্থাপনা সরদার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর প্রাঙ্গণে থাকা প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি রক্ষায় দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি শুটিংয়ের জন্য বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া এবং পরে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মীরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ ও দাবি জানায় স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি। সংগঠনের আহ্বায়ক, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ের জন্য বড় সরদার বাড়িটি একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে চার দিনের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। শুটিং শেষে অস্থায়ী কাঠামো ও সরঞ্জাম সরানোর সময় স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শাহেদ কায়েসের অভিযোগ, ভাড়া বাবদ কাগজপত্রে ছয় লাখ টাকা আদায়ের কথা উল্লেখ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ নেওয়া হয়েছে। শুটিংয়ের আগে বড় সরদার বাড়ির রেস্টোরেশন প্রকল্পের পরিচালক স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ স্থাপনাটি পরিদর্শন করে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে ভবনের স্থাপত্যিক অলংকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছিলেন। তাঁর পরামর্শ উপেক্ষা করেই বাড়িটি শুটিংয়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, শুটিংয়ের পর ভবনের কার্নিশের কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে এবং অভ্যন্তরেও ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম ও প্রকৌশলী হানিফ আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্প ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপনে টেন্ডার ছাড়াই এফ ফাইভ কমিউনিকেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এফ ফাইভ কমিউনিকেশনের নামে ভুয়া বিল ও চেক তৈরি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, দুটি এটিএম বুথ নির্মাণে ছয় লাখ টাকার কাজকে ৩০ লাখ টাকা দেখানো এবং ফাউন্ডেশনের স্মারকগ্রন্থ প্রকাশে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে প্রায় ১২ লাখ টাকার বিল করার মতো অনিয়ম হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের নামে ভুয়া বিল, পরিচালনা বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেসরকারি ব্যাংকে অর্থ রাখা, সুবর্ণজয়ন্তী স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ এবং কারুপল্লির কারুশিল্পীদের কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত বা ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে মোট ১২টি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বড় সরদার বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং ভবিষ্যতে প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে চিত্রশিল্পী ও লেখক রফিউর রাব্বি, কবি রহমান মুজিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা সুজনের সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল ও কবি মোয়াজ্জেমুল হক উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মতামত দিন