চকরিয়া–পেকুয়া ও মাতামুহুরীতে পানিবন্দী ৫ লাখ মানুষ
পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় তিন উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
বন্যার কারণে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে চকরিয়ায় বন্যার পানির স্রোতে নৌকাডুবির ঘটনায় হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের প্রবেশমুখ সুরাজপুর-মানিকপুর ও কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা ৫ থেকে ৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। মাতামুহুরী নদীর উপচে পড়া পানিতে জিদ্দাবাজার–কাকারা–মানিকপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে গেছে। এছাড়া কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
চকরিয়ার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, চিরিঙ্গা, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী ইউনিয়ন এবং পেকুয়া পৌরসভাসহ মেহেরনামা, উজানটিয়া, মগনামা, রাজাখালী, টৈটং, শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, বদরখালী, কোণাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা ও বিএমচর ইউনিয়নেরও লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন।
চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আবদুর রহিম বলেন, অতিবৃষ্টিতে পৌরসভার সব ওয়ার্ড পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে পানি দ্রুত নামানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পানিবন্দী মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানান, গত তিন দিন ধরে অধিকাংশ পরিবারের রান্না বন্ধ। তারা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, লাখো মানুষ পানিবন্দী। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুকনো ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যার পানি বাড়ছে। শুধু চকরিয়াতেই ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই উপজেলার জন্য ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ত্রাণ সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
মতামত দিন