কক্সবাজারের ২ হাসপাতালে প্রশাসনের অভিযান, ৫ বিভাগ সিলগালা
অনুমোদন নেই, নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও। কিন্তু তারপরও নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে চালু করা হয় ৬ শয্যার ইনসেন্টিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। পর্যাপ্ত নিয়ম-নীতি মানা হয়নি অপারেশন থিয়েটার, সিটি স্ক্যান ও পোস্ট অপারেটিভ বিভাগ চালুর ক্ষেত্রেও। নবায়ন নেই বিভিন্ন দপ্তরের নিবন্ধনেরও। এত সব অনিয়ম নিয়েই চলছিল কক্সবাজার শহরের বেসরকারি ইউনিয়ন হাসপাতাল।
শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারে গিয়ে হঠাৎ ইউনিয়ন হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। এ সময় তিনি নিজে নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন। পরে সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর ঘুম ভাঙে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনেরও। পরে শনিবার (১৭ ফেবুয়ারি) সেখানে অভিযান চালিয়ে হাসপাতালের আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট অপারেটিভ ও সিটি স্ক্যান বিভাগ সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজমিন আলম তুলি ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল।
পরে জেনারেল হাসপাতাল নামে আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালায় তারা। এ সময় অনুমোদনহীনভাবে পরিচালনা করায় হাসপাতালটির ইসিজি বিভাগ সিলগালা করে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি এক্স-রে না করারও নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অভিযান শেষে গণমাধ্যমকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল জানান, সারাদেশে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব হাসপাতালে অভিযান চালানো হবে।
তবে এত দিন অভিযান না করে মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর কেন অভিযান চালানো হলো তা জানতে চাইলে এড়িয়ে যান তিনি।
ইউনিয়ন হাসপাতালের সব বিভাগের অনুমোদন বা নিবন্ধন আছে কি না জানতে চাইলে সব ঠিক আছে দাবি করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার এই কর্মকর্তা। কিন্তু বেসরকারি এই হাসপাতালের বর্তমানে একটি বিভাগের নিবন্ধনেরও নবায়ন নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে