সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগে যে ৫ ভুল এড়িয়ে চলবেন
নিরাপদ বিনিয়োগের কথা উঠলে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে সঞ্চয়পত্র এখনো জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। ভবিষ্যতের শিক্ষা, চিকিৎসা, পারিবারিক ব্যয় কিংবা নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন মেটাতে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য এ খাতকে বেছে নেন। তবে নিয়ম না জেনে বা নিজের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মিল না করে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কাও থাকে।
বিশেষ করে বিনিয়োগের আগে মেয়াদ, মুনাফা পাওয়ার পদ্ধতি, কর এবং নির্ধারিত সীমা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কখন অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। সঞ্চয়পত্র কেনার সময় যে পাঁচটি ভুল সাধারণত এড়িয়ে চলা উচিত, সেগুলো হলো:
জরুরি অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আটকে রাখা
হঠাৎ চিকিৎসা ব্যয়, পরিবারের জরুরি প্রয়োজন কিংবা স্বল্প সময়ের মধ্যে লাগতে পারে এমন অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। কারণ অনেক সঞ্চয়পত্র নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কেনা হয় এবং মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ভাঙলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যাশিত মুনাফা নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা নগদ বা সহজে উত্তোলনযোগ্য অর্থ রাখা প্রয়োজন।
বিনিয়োগসীমা ও বর্তমান নিয়ম যাচাই না করা
কত টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে, কোন ধরনের বিনিয়োগে কী নিয়ম প্রযোজ্য এবং বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফা বা অন্যান্য শর্তে কোনো পার্থক্য আছে কি না, তা আগে জেনে নেওয়া জরুরি। পরিবারের অন্য সদস্যের নামে বিনিয়োগ করলেও অর্থের প্রকৃত মালিকানা, উৎস এবং করসংক্রান্ত বিধান বিবেচনায় রাখতে হবে। শুধু করের সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে অন্যের নামে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কর ও উৎসে কর্তনের বিষয়টি উপেক্ষা করা
সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া মুনাফার ওপর নির্ধারিত নিয়মে উৎসে কর কাটা হয়। বিনিয়োগকারীর টিআইএন, আয়কর রিটার্ন এবং অন্যান্য করসংক্রান্ত বিষয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিনিয়োগের আগে নিজের কর পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে প্রযোজ্য করের হার ও বিধান জেনে নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
শুধু মুনাফার হার দেখে স্কিম নির্বাচন করা
সঞ্চয়পত্রের সব স্কিমে মুনাফা পাওয়ার পদ্ধতি একই নয়। কারও প্রয়োজন হতে পারে নিয়মিত আয়, আবার কেউ নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে এককালীন অর্থ পেতে চাইতে পারেন। তাই শুধু কোন স্কিমে মুনাফার হার বেশি, সেটি না দেখে নিজের মাসিক ব্যয়, নগদ অর্থের প্রয়োজন এবং বিনিয়োগের লক্ষ্য অনুযায়ী স্কিম নির্বাচন করা উচিত। যেমন, পরিবার সঞ্চয়পত্রে নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে কিছু স্কিমে নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
পুরো সঞ্চয় একটি খাতে রাখা
সঞ্চয়ের পুরো অর্থ সঞ্চয়পত্রে রেখে দেওয়া সব পরিস্থিতিতে ভালো আর্থিক পরিকল্পনা নয়। জরুরি ব্যয়ের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য অর্থের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয় ভাগ করে রাখলে ঝুঁকি কমে। এতে হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন হলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আগেভাগে ভাঙার প্রয়োজনও কমে যায়।
সঞ্চয়পত্রে অর্থ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্কিমের বর্তমান মুনাফার হার, মেয়াদ, বিনিয়োগসীমা, করের নিয়ম এবং মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙানোর শর্ত যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কখন এবং কত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও হিসাব করতে হবে। নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি নিজের আর্থিক লক্ষ্য ও নগদ অর্থের প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিনিয়োগ করাই হতে পারে বেশি কার্যকর সিদ্ধান্ত।
মতামত দিন