Views Bangladesh Logo

১০ বছর পর দেশে ফিরলেও বাড়ি ফেরা হলো না, মা-ভাই-বোনসহ লাশ হয়ে ফিরলেন আরিফ

এক দশকের প্রবাসজীবন শেষে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে দেশে ফিরেছিলেন আরিফুল ইসলাম। মালয়েশিয়ায় ১০ বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর ছুটিতে দেশে এসে নতুন স্বপ্ন নিয়ে জীবন শুরু করার কথা ছিল তার। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে গেল সড়ক দুর্ঘটনা। মুহূর্তেই নিভে গেল একটি পরিবারের চারটি প্রাণ।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। তাকে বরণ করে আনতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তার মা নুরজাহান বেগম, ভাই রাকিব হোসেন, বোন আয়শা খাতুন, ভাগ্নে-ভাগ্নিসহ পরিবারের সদস্যরা। আনন্দঘন সেই পুনর্মিলনই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় মৃত্যুযাত্রায়।

ফেরার পথে মঙ্গলবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন চারজন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরিফুল ইসলাম।

নিহতরা হলেন—প্রবাসী আরিফুল ইসলাম (৩০), তার মা নুরজাহান বেগম (৫৫), ভাই রাকিব হোসেন (২০), বোন আয়শা খাতুন (৩৫) এবং প্রাইভেটকার চালক জাহিদ হোসেন (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আয়শার দুই শিশু সন্তান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমিহীন পরিবারের সন্তান আরিফ প্রায় ১১ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে কিছু অর্থ সঞ্চয় করেন, কিনেছিলেন সামান্য জমি, গড়েছিলেন মাথাগোঁজার ঠাঁই। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখারও কথা ছিল তার। পরিবারজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। কিন্তু সেই আনন্দ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রূপ নেয় শোকের সাগরে।

পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে এখন একা হয়ে পড়েছেন আরিফের বাবা শহিদুল ইসলাম। কেবল বাড়িতে থাকার কারণেই তিনি দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পান। স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়েকে হারিয়ে তিনি এখন শোকাহত ও বাকরুদ্ধ।

স্বজনরা বলছেন, যে বাড়িতে দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রিয় সন্তানের ফেরাকে ঘিরে আনন্দ-উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেই বাড়িতেই এখন কান্নার রোল। আরিফের স্বপ্ন, পরিবারের অপেক্ষা এবং পুনর্মিলনের আনন্দ—সবকিছুই এক মুহূর্তে কেড়ে নিয়েছে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ