Views Bangladesh Logo

পুঁজিবাজারে পাঁচ বছর: সুশাসন ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির গল্প বলল রবি

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজেদের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী করপোরেট সুশাসনের ভিত্তিতে রবি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

রবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে তাদের নেটওয়ার্কে ৭৬ লাখ ৭০ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ১ কোটি ১০ লাখ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ২ কোটি ৫৫ লাখ নতুন ফোরজি গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের টেলিযোগাযোগ বাজারে সর্বোচ্চ সংখ্যক সক্রিয় গ্রাহক যুক্ত করার দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আর্থিক দিক থেকেও ধারাবাহিক উন্নতির কথা জানিয়েছে রবি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই রাজস্ব ও কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কর-পরবর্তী মুনাফা ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি মোট ২ হাজার ৮১৯ কোটি টাকার বেশি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা লভ্যাংশ বিতরণ করেছে।

২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৭৯ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ৭২ শতাংশ ফোরজি গ্রাহক, যা উভয় ক্ষেত্রেই দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে প্রতি ডেটা ব্যবহারকারীর মাসিক গড় ডেটা ব্যবহার ১০ জিবির বেশি হয়েছে।

নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে রবি। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত স্পেকট্রামের মূল্য বাদ দিয়ে নেটওয়ার্কে ৯ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০২০ সালের শেষে যেখানে ফোরজি সাইট ছিল ১৩ হাজার ১৭৩টি, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৬৪৬টি। একই সঙ্গে স্পেকট্রাম ধারণক্ষমতা ৩ দশমিক ৪ গুণ বেড়ে ১২৪ মেগাহার্টজে পৌঁছেছে।

ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগেও অগ্রগতির কথা তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিডিঅ্যাপস প্ল্যাটফর্মে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডেভেলপার ১ লাখ ২৫ হাজার অ্যাপ প্রকাশ করেছেন এবং সেখান থেকে মোট ২৮০ কোটি টাকা আয় করেছেন। বিডিটিকিটস প্রতিদিন ৮০ হাজারের বেশি যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে, আর এক্সেনটেক ও রেডডট ডিজিটাল এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি সেবায় কাজ করছে।

জিয়াদ সাতারা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন রবির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, গ্রাহকভিত্তিক সেবা উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবার দক্ষতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতের এই প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি হিসেবে তিনি শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন, তথ্যের নিরাপত্তা এবং নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ