প্রধানমন্ত্রীর সিল-স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা, সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
প্রধানমন্ত্রীর সিল, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া সরকারি নথি তৈরি এবং সেগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ মাদারীপুরের কালকিনি ও কুষ্টিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ফারুক হোসেন (৪১), সাকিব খান (২৫), মাসুম মুন্সী (৪৫), মীর তৌহিদুল ইসলাম (৩৬) ও মো. বকুল মণ্ডল (৩৫)।
অভিযানে চার বান্ডিল ভুয়া সরকারি লেটারহেড, প্রধানমন্ত্রীর নাম-স্বাক্ষরসহ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নামে তৈরি ৪১টি জাল সিল, আটটি মোবাইল ফোন, দুটি কম্পিউটার ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এটি সাধারণ জালিয়াতির ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় অপব্যবহার করে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণা করে আসছিল।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ভুয়া সরকারি লেটারহেড, সিল ও সুপারিশপত্র তৈরি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করত।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, চক্রের মূলহোতা ফারুক হোসেন ২০০৬ সালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সরকারি প্রকল্পে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন। ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর পুনর্বহালের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘প্রায়োরিটি’ সিলসহ বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সচিবদের জাল সিল, স্বাক্ষর ও লেটারহেড তৈরি করেন।
পরবর্তীতে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে ভুয়া সরকারি নথি ব্যবহার করে তদবির ও প্রতারণার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেন বলে জানিয়েছে ডিবি।
তদন্তে আরও জানা গেছে, পুনর্বহালের বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চক্রটি প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তার ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টও খুলেছিল।
এ ছাড়া মলদোভায় জনশক্তি নিয়োগসংক্রান্ত একটি ভুয়া সুপারিশপত্র ব্যবহারেরও প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারীরা।
ডিবিপ্রধান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে জাল নথিগুলো অন্য কোনো প্রতারণা বা অবৈধ প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মতামত দিন