ফরিদপুরে ইজিবাইক চালক শওকতকে হত্যার দায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড
ফরিদপুরে ইজিবাইকচালক শওকত মোল্লাকে (২০) হত্যার দায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। ছয়জন আসামির অন্যজনকে দেয়া হয়েছে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরের মেহেদী আবু কাওসার, জনি মোল্লা ও আবু রাসেল শেখ (পলাতক), রবিদাসপল্লির রাজেশ রবিদাস এবং গোয়ালচামটের রবিন মোল্লা। ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড পান রাজবাড়ী সদর উপজেলার মসলিসপুর গ্রামের বাদশা শেখ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির এ রায় দেন প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদুর রহমানের আদালত।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আবু রাসেল শেখ ছাড়া বাকি পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাদেরকে রায় শোনাতে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শওকত মোল্লা শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার আয়নাল মোল্লার ছেলে। ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইজিবাইক নিয়ে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ১৫ নভেম্বর সকালে শহরের মোল্লাবাড়ি সড়কের পাশের একটি ধানখেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ১৬ নভেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলাটি করেন শওকতের বাবা আয়নাল মোল্লা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, শওকতকে শ্বাসরোধে হত্যার পর প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের ইজিবাইক ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনতাই করে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি চৌধুরী জাহিদ হাসান জানান, শওকত মোল্লাকে তার ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন আদালত।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইজিবাইক হাতিয়ে নিতে খুনের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি সমাজের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে’।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে