দেশের ৪২ শতাংশ পরিবার এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে: বিবিএস
দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ পরিবার এখনো ইন্টারনেট সেবার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন এক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পরিবারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহারের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮.২ শতাংশে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৯.৭ শতাংশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিবিএসের ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ব্যবহার ও প্রাপ্যতা জরিপ’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের ওপর এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। দেশের নির্বাচিত ২ হাজার ৫৬৮টি নমুনা এলাকা থেকে ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবারের কাছ থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করেছে বিবিএস।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার কমলেও ব্যক্তি পর্যায়ে তা বেড়েছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার আগের বছরের ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৯.২ শতাংশ। একই সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার ৮৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯.৬ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের মালিকানা ৬৪.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫.৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
একই সময়ে পরিবারে স্মার্টফোন ব্যবহারের হার ৭৪.৮ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে হয়েছে ৭৫.১ শতাংশ। পরিবার পর্যায়ে মোবাইল ফোনের মালিকানা প্রায় সর্বজনীন পর্যায়েই রয়ে গেছে, এটি ৯৮.১ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮.২ শতাংশে।
তবে প্রথাগত যোগাযোগ ও বিনোদন যন্ত্রের ব্যবহার কমতে থাকার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ল্যান্ডফোন সংযোগ থাকা পরিবারের হার নেমে এসেছে মাত্র ০.৭ শতাংশে। রেডিওর মালিকানা ১৬ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১৫.৩ শতাংশ। বিপরীতে টেলিভিশনের মালিকানা ৫৯.১ শতাংশ থেকে কিছুটা বেড়ে ৬০.১ শতাংশ হয়েছে।
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের উচ্চ খরচকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিবিএস। আগের একটি জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে সংস্থাটি জানায়, ইন্টারনেট ব্যবহার না করার কারণ হিসেবে ৪৩.৬ শতাংশ উত্তরদাতা উচ্চ খরচের কথা উল্লেখ করেছেন। গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সমস্যাটি বিশেষভাবে প্রকট।
জরিপের তথ্যানুযায়ী, সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোঁজার কাজে সবচেয়ে বেশি (৬৪ শতাংশ) ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। এর পরেই রয়েছে ক্রীড়াবিষয়ক তথ্য অনুসন্ধান (প্রায় ৫০ শতাংশ)। তবে দেশে অনলাইনে পণ্য বা সেবা কেনাকাটায় ইন্টারনেটের ব্যবহার এখনো বেশ সীমিত—মাত্র ১১.৬ শতাংশ মানুষ এই কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।
মতামত দিন