লঘুচাপের প্রভাবে চার নৌযানডুবিতে নিহত ১, জীবিত উদ্ধার ৫৫
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় তিনটি মাছ ধরার ট্রলার ও একটি লবণবাহী বাল্কহেড ডুবে গেছে। এসব ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৫৫ জনকে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদীর পৃথক স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ছাবের আহমেদ (৬৫) চট্টগ্রামের শিকলভাঙা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ডুবে যাওয়া বাল্কহেডের লস্কর ছিলেন।
জানা গেছে, বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১ হাজার মণ লবণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয় কার্গো বাল্কহেড ‘এমভি আদনান’। হাতিয়ার মেঘনা নদীর ঠেঙ্গারচর এলাকায় পৌঁছানোর পর এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে প্রচণ্ড বাতাসের কবলে পড়ে বাল্কহেডটি ডুবে যায়।
কার্গোটিতে থাকা আটজন নদীতে পড়ে গেলে পাশের একটি মাছ ধরার ট্রলারের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ছাবের আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধার হওয়া অন্যদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার সকালে নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজমারা ইউনিয়নের নাসির মাঝি, জহির মাঝি ও জাহেদ মাঝির তিনটি মাছ ধরার ট্রলার। পরে সাগরে থাকা অন্য ট্রলারের জেলেরা দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানগুলোর মাঝিমাল্লাদের উদ্ধার করেন।
জহির মাঝির ট্রলারের মালিক নিশান চৌধুরী জানান, সকালে হঠাৎ আবহাওয়া বৈরী হয়ে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। এতে নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি তিনটি ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে অন্য ট্রলারের সহযোগিতায় ৪৮ জন মাঝিমাল্লাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে দুটি ট্রলার পুরোপুরি ডুবে গেছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজমারার নিমতলী ও বয়ারচরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে উদ্ধার হওয়া বাল্কহেডের নাবিকদের কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রলারডুবিতে উদ্ধার হওয়া বেশির ভাগ মাঝিমাল্লা সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মতামত দিন