বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন, ৪ জনের মরদহে উদ্ধার
বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ট্রেনের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে গোপীবাগ এলাকায় ওই ট্রেনের চারটি বগিতে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।
ট্রেনে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, পিএসসি)।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের সরিয়ে নিতে গিয়ে একজন নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, সায়দাবাদ স্টেশন অতিক্রম করার পরপরই ট্রেনটিতে আগুন লেগে থাকতে পারে।
মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন আরও বলেন, “আমাদের ধারণা ট্রেনের ভেতরে আরও অনেক যাত্রী আটকা পড়েছে। এখন আমরা ট্রেনের ভেতরে প্রবেশ করব এবং উদ্ধার অভিযান চালাবো।”
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের অপারেটর ফরহাদুজ্জামান জানান, ট্রেনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।
তিনি আরও জানান, আগুন ঢাকাগামী ট্রেনের অন্তত চারটি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অভিযান চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বেনাপোল এক্সপ্রেসে ট্রেনটি বেনাপোল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসছিল। তবে কমলাপুর রেল স্টেশনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে গোপীবাগ কিচেন মার্কেটের সামনে ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আহত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত
আহতরা হলেন-নেত্রকোনা জেলার আসিফ খান (৩০), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর চিকিৎসক কৌশিক (৩৫) এবং ফরিদপুরের নাফিস আলম (২২)। তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে আসিফ খানের ৮ শতাংশ পুড়ে গেছে।
এদিকে আসিফ খানের সঙ্গে তার স্ত্রী নাতাসাও ওই ট্রেনে যাত্রা করছিলেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
যাত্রী পরিচয়ে ট্রেনে ওঠা
পুলিশের ধারণা, অগ্নিসংযোগকারীরা যাত্রী পরিচয়ে ঢাকাগামী ওই ট্রেনে উঠেছিল এবং আগুন দেয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, “এটি একটি নাশকতা। এটা অমানবিক। যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি হবে“
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাটি তদন্ত করছে।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে শিশুসহ চারজন নিহত হয়। এ ছাড়াও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে হরতাল-অবরোধের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চারটি ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় রেললাইনে আরও ১৯টি অগ্নিসংযোগ করা হয় ঘটে। সবমিলিয়ে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজন মারা গেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে