ঢাকায় তৃতীয় স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াড, অংশ নিল ২০২ শিক্ষার্থী
শিশু-কিশোরদের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসা বাড়াতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয় ‘স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াড’। শনিবার (২৯ আগস্ট) আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ২০২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতাটি চারটি বয়সভিত্তিক বিভাগে ভাগ করা হয়। বয়স অনুযায়ী প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুও নির্ধারণ করা হয়। ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য সৌরজগৎ, গ্রহ-নক্ষত্র, রকেট ও স্যাটেলাইটের মতো মৌলিক বিষয় রাখা হয়। তুলনামূলকভাবে বড়দের জন্য মহাকাশ রোবোটিকস, মঙ্গলগ্রহের রোভার, স্পেস স্টেশন এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তির মতো অপেক্ষাকৃত জটিল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গ্র্যান্ড ফিনালেতে পৌঁছানোর আগে অনলাইনে একাধিক ধাপে বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। এসব পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। বাছাইপর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীদের নির্বাচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে এআইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দেবে। মহাকাশবিজ্ঞানের মতো জটিল বিষয়কে আনন্দ ও আগ্রহের সঙ্গে শেখার সুযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন আরও কার্যকর হবে।
আইইউবির সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন বলেন, শৈশব থেকেই মহাকাশ ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা দরকার। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের প্রচলিত পাঠ্যক্রমের বাইরে চিন্তা করতে এবং নতুন বিষয় অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে। স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের সভাপতি আরিফুল হাসান বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যেই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি এবং মহাকাশবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই আয়োজনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে চারটি বিভাগে মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়াতে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতাটি বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মতামত দিন