Views Bangladesh Logo

বরিশাল বোর্ডে ৩৯ হাজার ছেলে শিক্ষার্থী ‘মেয়ে’ হিসেবে নিবন্ধিত

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড-এর অধীনে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার নিবন্ধনপত্রে ৩৯ হাজার ছেলে শিক্ষার্থীকে ‘মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বোর্ডের অ্যানালিস্ট এস এম শহিদুজ্জামানের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে।

মঙ্গলবার অভিযুক্তের শাস্তির সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন বোর্ড চেয়ারম্যান ড. ইউনুস আলী সিদ্দিকী-এর কাছে জমা দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ড. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংস ও অপারেটরের অসাবধানতার কারণে এ ভুল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট কলেজের প্রতিনিধিরা বোর্ডে এলে নিবন্ধন সংশোধন করে পুনরায় প্রিন্ট দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা হয়েছে এবং বর্তমানে এ নিয়ে আর কোনো জটিলতা নেই।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বরিশাল বোর্ডের অধীনে মোট ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করে। এর মধ্যে ৩০ হাজার মেয়ে ও ৩৯ হাজার ছেলে শিক্ষার্থী। তবে নিবন্ধনপত্রে সব ছেলে শিক্ষার্থীকে ‘মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করায় শতভাগ পরীক্ষার্থীই কাগজে মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত হন।

ঝালকাঠিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিবন্ধনপত্র বিতরণের সময় প্রথম এ ভুল ধরা পড়ে। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, বোর্ডের সব ছেলে শিক্ষার্থীর নিবন্ধনপত্রেই একই ত্রুটি রয়েছে।

বরিশাল সরকারি আলেকান্দা কলেজ-এর অধ্যক্ষ ড. লিয়াকত হোসেন বলেন, নিবন্ধনপত্র প্রিন্টের পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ যাচাই করলে সহজেই ভুলটি ধরা পড়ত। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল কার্ড পৌঁছানো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নতুন সেটিংস করে সব নিবন্ধনপত্র পুনর্মুদ্রণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সংশোধিত কপি প্রিন্ট সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কপিগুলো আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, নিবন্ধনপত্র প্রিন্টের জন্য বোর্ডের নিজস্ব প্রিন্টার ছিল। তবে করোনা মহামারির সময় সেটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। গত তিন-চার বছর ধরে নতুন প্রিন্টার সংগ্রহ না করে ঢাকায় গিয়ে নিবন্ধনপত্র প্রিন্ট করা হচ্ছে, যার যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বোর্ডকেই বহন করতে হচ্ছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ