Views Bangladesh Logo

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ৩৯ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য অপসারণের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৩৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা জেলা প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে ভাস্কর্যটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পূর্বস্থানে পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সংযোগ সড়কের বেদিতে জেলার কৃতি সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণাধীন ছিল। কিন্তু কোনো ধরনের জনপরামর্শ বা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একটি ‘খোঁড়া’ অজুহাত দেখিয়ে জেলা প্রশাসন ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শুরু করেছে। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। সেই ক্ষতি সংস্কার না করে বরং ভাস্কর্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া স্বাধীনতার সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।

বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, দুর্ঘটনা কমানোর যুক্তি দেখানো হলেও ঝিনাইদহের নাগরিক সমাজ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ভাস্কর্যটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পুনঃস্থাপনের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনাগুলো দ্রুত সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- প্রাক্তন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, নিজেরা করি'র সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের শিরীন পারভিন হক, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও তবারক হোসেন, লেখক রেহেনুমা আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী মো. নুর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, ড. সামিনা লুৎফা, ড. জোবাইদা নাসরীন, রোবায়েত ফেরদৌস ও গীতি আরা নাসরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ।

এ ছাড়া স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন- লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, নৃবিজ্ঞানী ড. ঈশিতা দস্তিদার, গবেষক ও অধিকার কর্মী রোজিনা বেগম, কাজল দেবনাথ, মনিন্দ্র কুমার নাথ, সালেহ আহমেদ, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী পারভেজ হাসেম, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো সাদাব নুর, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী সাঈদ আহমেদ, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, আদিবাসী কবি ও সংস্কৃতি কর্মী মিঠুন রাফসান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, অধিকার কর্মী মুক্তাশ্রী চাকমা, আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমীলা, অধিকার কর্মী ড. হানা শামস আহমেদ এবং সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ