প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে নারীপ্রধান ৩৭৫৬৭ পরিবার
রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার এ কার্ড পাবে।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে, যাতে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারভিত্তিক প্রক্সি মিনস টেস্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) চিপযুক্ত এ কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
একটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পাইলট পর্যায়ে উপকারভোগী পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবে। পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তবে নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। যদিও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাদের প্রাপ্ত ভাতা অব্যাহত রাখতে পারবেন।
পাইলট পর্যায়ে কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান বা পেনশন পেলে অথবা নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে সেই পরিবার ভাতার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না।
মন্ত্রী জানান, জুন ২০২৬ পর্যন্ত পাইলট বাস্তবায়নের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬ শতাংশ) সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪ শতাংশ) তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম উন্নয়ন, কার্ড প্রস্তুতিসহ অন্যান্য বাস্তবায়ন খাতে ব্যয় হবে।
‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে